সুন্দরবন বিপদজনক অবস্থানে: সুলতানা কামাল

সুন্দরবন নানা কারণে বর্তমানে বিপদজনক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি সুলতানা কামাল।

সোমবার সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, সুন্দরবন নিয়ে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সর্বশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, “সুন্দরবন ইস্যুতে সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সদস্যদের সাথে দেন-দরবার করেছে বলে মনে হয়। সেটির প্রমাণ গত ৪৪তম সভায় স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। রাজনীতি দেশের ও জনগণের স্বার্থে হচ্ছে নাকি মুষ্টিমেয় মুনাফালোভীদের স্বার্থে হচ্ছে তাও জাতিকে বুঝতে হবে।

“সুন্দরবন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিজ সংগঠনের এবং গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একটি শক্ত মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে। আজকে আমরা অত্যন্ত হতাশা ও ক্ষোভের সাথে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির গত ৪৪তম সভার সুপারিশের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি।”

শুক্রবার চীনের ঝুঝোও শহরে জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৪তম সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী বছর কমিটির ৪৫তম সভায় সুন্দরবনকে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য’ ঘোষণা করা হবে- কি হবে না, সে সিদ্ধান্ত হবে।

দূষণ বাড়ছে সুন্দরবনের  

রেডিও-কলার লাগানো সেই বাঘের সাথে ‘বাংলাদেশের ডোরায় মিল’  

এদিকে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ আশপাশে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা সুন্দরবনের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা নিরূপণে সরকার যে কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা (এসইএ) করছে, তা আগামী অগাস্টের মধ্যে শেষ করতে হবে।

ইউনেসকোর দেওয়া ১৪টি শর্ত বাংলাদেশ কতটুকু পালন করল, সেই প্রতিবেদনও আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দিতে হবে।

ঝুঝোও শহরে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভা ১৬ জুলাই শুরু হয়। সম্মেলন চলবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত।

শুক্রবারের সভায় কমিটির ২১টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সুন্দরবনের ওপরে তৈরি খসড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করেন। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মিসর, চীন, রাশিয়া, ইথিওপিয়া, সৌদি আরব, ওমান, তাজিকিস্তানসহ ১৮টি দেশ এ বছর সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পক্ষে মত দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, “বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির গত ৪৪তম সভায় বিশ্বের ১৯৯টি বিশ্ব ঐতিহ্য বিষয়ে বিশ্লেষণ ও আলোচনা করা হয় যার মধ্যে সুন্দরবন বিষয়টিও ছিল। কমিটি তার দুর্বল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুন্দরবনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যার্থ হয়েছে।

“সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা রাজনৈতিক বিবেচনাকে বিজ্ঞান এবং আদর্শের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।”

সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। সরকার যে তকমা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ করা হচ্ছে তাও ব্যর্থ হয়েছে। এখনই সব কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করতে হবে।”

ওয়ার্ড হেরিটেজ ওয়াচের চেয়ারম্যান স্টিফেন ডমপকে বলেন, “বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অধিবেশন চলাকালীন আমরা কার্যত শক্তিহীন ছিলাম। সুতরাং আমাদের জনসাধারণের দ্বারা চাপ সৃষ্টি করা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন অবশ্য করণীয়।“

বিষয়টি আসন্ন কপ সম্মেলনে উত্থাপন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় রাজনৈতিক প্রভাব কয়েক বছর যাবৎ প্রকটভাবে দেখা গেলেও এবছর তা কেবল সুন্দরবন নয়, অন্যান্য ঐতিহ্যের বেলায়ও প্রকটভাবে লক্ষ্য করা গেছে।”

সুন্দরবনে ‘বিষ’ দিয়ে চিংড়ি শিকার, আটক ২  

ঘূর্ণিঝড়ে রক্ষাকবচ সুন্দরবন প্লাবিত  

বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষে অংশগ্রহণকারী পরিবেশ আন্দোলন কর্মী তন্বী নওশীন বলেন, “বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৪তম সভা আমাদের জন্য শুধুই ক্ষোভ ও কষ্টের বিষয় ছিল। কয়লা প্রকল্প যেন সুন্দরবনে করা না হয় সে জন্য আমাদের বক্তব্য প্রদান করেছি।

“সভায় কমিটির কিছু কিছু সদস্য বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু নিম্ন আয়ের দেশ সেখানে উন্নত হওয়া দরকার। তাই বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে বেশি চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নাই বলে মন্তব্য করেন।”

অন্যদের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ্ হারুন চৌধুরী, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান।