ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হয়েছে।

মুজিববর্ষে উৎসবের ঊনিশতম এই আসর উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে৷

শনিবার বিকালে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত নয় দিনব্যাপী এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এই ধরনের চলচ্চিত্র উৎসব জীবনেরই উৎসব। সুরের ও বর্ণিল উৎসব। স্বপ্নের উৎসব। সেই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তরুণ মেধাবীদের শেখার বড় জায়গা।”

মানুষের জীবনের গল্প চলচ্চিত্রের মর্মভেদী উপস্থাপনায় উঠে আসার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জীবন-জীবিকার সীমানা পেরিয়ে চলচ্চিত্র নানা দিক তুলে ধরে এবং এমন গল্প বলে যাতে সাধারণ আমরা নজর দিতে ভয় পাই।”

আন্তঃদেশীয় পরিমণ্ডলে মানুষে-মানুষে সংযোগের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ভূমিকার কথা তুলে ধরে মোমেন বলেন, “গল্প আর কথিকার পথ ধরে সভ্যতাগুলোর সংযোগ ঘটে থাকে। পারস্পরিক আদান-প্রদানের মাধ্যমেই সমৃদ্ধ ও বর্ণিল রূপ পায় সভ্যতা।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, “যত বেশি চলচ্চিত্র তৈরি হবে তত বেশি এই শিল্প বড় হবে। এর মাধ্যমে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র আসার সুযোগ তৈরি হবে।

“সেই সঙ্গে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বেশি পরিমাণে তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে এবার ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল ফোকাস বাংলাদেশ হওয়ার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন হাই কমিশনার।

এবারের উৎসবে বাংলাদেশসহ ৭৩টি দেশের ২২৭টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১০৭টি, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১২০টি।

উৎসবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র থাকছে ৪১টি, যার মধ্যে ৩৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন এবং ৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য। উদ্বোধনের পর উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ‘স্প্রিং ব্লোসম’ প্রদর্শন করা হয়।

জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নৃত্যশালা মিলনায়তন, শিল্পকলার নন্দন থিয়েটার (মুক্তমঞ্চ), বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স এবং সীমান্ত স্কয়ার সিনেপ্লেক্সে উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে৷

আয়োজকরা জানিয়েছেন, উৎসব মিলনায়তনের পাশাপাশি অনলাইনেও চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ থাকছে। লাকভেলকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উৎসব চলাকালে নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা।

বরাবরের মতো এবারের উৎসবেও থাকছে এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিন্ডেন ফিল্মস্, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম মেকার বিভাগ।

এবারই প্রথম উৎসবে সংযুক্ত হচ্ছে ‘লেজেন্ডারি লিডারস হু চেঞ্জ দি ওয়ার্ল্ড' এবং ‘ট্রিবিউট’ নামে আরও দুটি নতুন বিভাগ৷

ট্রিবিউট বিভাগে সত্যজিৎ রায়ের সাতটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হওয়ার পাশাপাশি খ্যাতিমান এই নির্মাতাকে নিয়ে সেমিনার আয়োজন করা হবে।

উৎসবের অংশ হিসেবে আগামী ১৭-১৮ জানুয়ারি চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা বিষয়ক ‘সপ্তম আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস্ কনফারেন্স’, ১৯ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য মফিদুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল৷