কোভিড-১৯: চলে গেলেন অভিনয়শিল্পী এস এম মহসীন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনয়শিল্পী, নাট্যশিক্ষক এস এম মহসীন মারা গেছেন।

রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় এ অভিনয়শিল্পীর মৃত্যু হয়েছে বলে তার ছোট ছেলে রাশেক মহসীন জানান। এস এম মহসীনের বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

রাশেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর বাবার ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল।”

এপ্রিলের শুরুর দিকে করোনাভাইরাস শনাক্তের পর তাকে প্রথমে তাকে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল; পরে ইসপালস হাসপাতাল কিছুদিন আইসিইউতে চিকিৎসার পর সপ্তাহখানেক আগে বারডেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল মহসীনকে।

চার দশকের বেশি সময় ধরে মঞ্চ ও টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এস এম মহসীন। অভিনয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে সরকার। দীর্ঘদিন তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্য বিভাগ অনুষদের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। জাতীয় থিয়েটারের প্রথম প্রকল্প পরিচালক হিসাবে যুক্ত ছিলেন।

অনিমেষ আইচের পরিচালনায় ‘গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প’ নাটকের অভিনয় করে বোদ্ধামহলে প্রশংসিত হয়েছেন এ প্রবীণ অভিনয়শিল্পী। এটি ছাড়াও ‘মহর আলী’, ‘সাকিন সারিসুরিসহ বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘কবর’, ‘সুবচন নির্বাসনে’সহ বেশ কয়েকটি মঞ্চনাটকে কাজ করেছেন তিনি।

পরিচালক ওয়াজেদ আলী সুমনের পরিচালনায় ‘অন্তরাত্মা’ চলচ্চিত্রে শেষবারের মতো শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন ফেব্রুয়ারি মাসে। পাবনা থেকে মার্চে চলচ্চিত্রের শুটিং শেষের পর ঢাকায় ফিরেই করেনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

রোববার আসরের পর পরীবাগ মসজিদে জানাজা ও ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান শেষে আজিমপুর কবরস্থানে এস এম মহসীনকে সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছে নাট্যপরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড।