চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বাবার আক্ষেপ ছিল: ওয়াসীমের ছেলে

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও প্রযোজক মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ ওয়াসীম দেড় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের ভালোবাসা পেলেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপ আজীবন বয়ে বেড়িয়েছেন বলে জানালেন তার ছেলে ফারদিন।

সত্তর ও আশির দশকের ফোক ফ্যান্টাসি ও অ্যাকশন চলচ্চিত্রের এ শীর্ষ নায়ক ৭৪ বছর বয়সে শনিবার রাতে রাজধানীর এক হাসপাতালে মারা গেছেন।

রোববার জোহরের পর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয় ওয়াসীমকে।

দাফনের আগে ফারদিন সাংবাদিকদের জানান, ১৯৭৯ সালে পরিচালক মমতাজ আলীর ‘ঈমান’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তার বাবা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মনোনয়ন পেলেও পরে বাতিল হয়ে যায়।

“এটি বাবার সারাজীবনের আক্ষেপ ছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাকে বলে গেছেন। জীবিত থাকা অবস্থায় মানুষের মূল্যায়ন করি না আমরা। যখন কেউ মারা যায় তখন নানাভাবে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়। উনি জীবিত থাকা অবস্থায় যদি এই অ্যাওয়ার্ডটা পেতেন তাহলে উনি আনন্দ পেতেন। কিন্তু তিনি সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পেলেও জীবদ্দশায় তিনি অগণিত দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন বলে জানান ফারদিন।

“দর্শকদের জন্যেই আমার বাবা ওয়াসীম হয়েছেন। যেখানেই গেছেন সেখানেই সম্মান পেয়েছেন। সবাই এই সম্মানটা পায় না। আমি এটা নিয়ে গর্ব করি। জীবনটা তো খুব ছোট। মান সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকায় ভালো।”

ছবি: ফেইসবুক থেকে

১৯৭২ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরুর পর ১৯৭৪ সালে মহসিনের পরিচালনায় ‘রাতের পর দিন’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে ওয়াসীমের। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের নজর কেড়ে কয়েক বছরের ব্যবধানেই ঢালিউডে নিজেকে শীর্ষস্থানে নিয়েছেন তিনি।

এস এম শফীর পরিচালনায় ‘দ্য রেইন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শদের পাশাপাশি বোদ্ধামহলেও প্রশংসিত হয়েছিলেন ওয়াসীম। ছবিটি বিশ্বের ৪৭টি দেশে মুক্তি পেয়েছিল।

‘দ্য রেইন’ ছাড়াও দুই দশকের ক্যারিয়ারে ‘ডাকু মনসুর’, ‘জিঘাংসা’, ‘কে আসল কে নকল’, ‘বাহাদুর’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘মানসী’, ‘দুই রাজকুমার’, ‘সওদাগর’, ‘নরম গরম’, ‘আসামি হাজির’, ‘রাজ দুলারী’, ‘লুটেরা’, ‘লাল মেম সাহেব’, ‘জীবন সাথী’, ‘রাজমহল’, ‘বিনি সুতার মালা’, ‘বানজারান’র মতো হিট চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ওয়াসীম।

নায়িকাদের মধ্যে অলিভিয়া, রোজিনা, অঞ্জু ঘোষ, কবরী, শাবানার সঙ্গে সর্বাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন ওয়াসীম। নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডব্লিউ আর প্রোডাকশনে ব্যানারে নির্মাণ করেছেন ‘হিসাব চাই’, ‘মোহন বাঁশি’, ‘নয়া তুফানসহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র।

১৯৬৪ সালে বডি বিল্ডিংয়ের জন্য ‘মিস্টার ইস্ট পাকিস্তান’ খেতাব অর্জন করেছিলেন ওয়াসিম।

ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেত্রী রোজী আফসারীর ভগ্নিপতি ও পরিচালক মালেক আফসারীর ভায়রা ওয়াসিম দুই সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ২০০০ সালে মারা গেছেন। মেয়ে বুশরা আহমেদ ২০০৬ সালে আত্মহত্যা করেছেন। ছেলে ফারদিন আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।

১৯৪৭ সালের ২৩ মার্চ চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন ওয়াসীম।