যেতে হবে বহুদূর: নাসির উদ্দীন ইউসুফ

বাংলা নাট্যমঞ্চের অন্যতম নাট্যদল ঢাকা থিয়েটারের চার দশকে পদার্পনের দিনে দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা, নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ আশা করছেন, নতুনের হাত ধরে নাট্যদলটি বহুদূর এগিয়ে যাবে।

১৯৭৩ সালে ১৯ জুলাই ‘মৌলিক নাটক মঞ্চায়নের মধ্যে বাংলা নাটকের মুক্তি’ শ্লোগান নিয়ে নাসির উদ্দীন ইউসুফসহ কয়েকজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধার হাত ধরে ঢাকা থিয়েটার প্রতিষ্ঠিত হয়।

সেই বছরের নভেম্বরে ঢাকা জেলা ক্রীড়া সমিতি মিলনায়তনে সেলিম আল দীনের রচনা ও নাসির উদ্দীন ইউসুফের নির্দেশনায় ‘সংবাদ কার্টুন’ও হাবিবুল হাসানের লেখা ও নির্দেশনায় ‘সম্রাট ও প্রতিদ্বন্দ্বীগণ’ নাটক প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বাংলা নাটকের মঞ্চে যাত্রা করেছিল ‘ঢাকা থিয়েটার’। সেই প্রদর্শনীর টিকিটের মূল্য ছিল দুই ও তিন টাকা।

সেই থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বাংলা নাটকের মঞ্চে ৪৮ বছরে পদার্পণ করেছে দলটি। দীর্ঘ এ যাত্রাপথে ঢাকা থিয়েটারের কর্মযজ্ঞে যুক্ত ছিলেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

চার যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমি কোন অবস্থাতেই এ কথা ভাবতে পারছিনা যে আমার জীবনের ৪ যুগ কেটে গেছে আমাদের প্রাণপ্রিয় নাট্যদল ঢাকা থিয়েটারে সাথে এবং এখনো বেঁচে আছি।

“যারা প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ দলের সাথে আছে, যারা জীবনের নানা দাবীর মুখে প্রিয় দল ছেড়ে গেছে, কিছুকাল দল করেছে, যারা নিকট অতীতে দলে যোগ দিয়েছে তাদের সবাইকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন। তোমাদের সকলের মিলিত পরিশ্রমে আজ ঢাকা থিয়েটার স্বমহিমায় বাংলা নাট্যমঞ্চের এক অপ্রতিরোধ্য নাম।”

প্রয়াত নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, “প্রয়াত নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের নেতৃত্বে ঔপনিবেশিকমুক্ত বাংলা ও বাঙালীর নাট্যরীতি ও আঙ্গিকের উদগাতা এইদল। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার সৃষ্টির মধ্যদিয়ে এই দল আমাদের নাট্য আন্দোলনে একটি বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটিয়েছে।

“কিন্তু মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাঙালির স্বপ্নের সিকিভাগও আমরা অর্জন করিনি। যেতে হবে বহুদূর। সে যাত্রা হয়তো নতূনের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে।”

চার যুগে ঢাকা থিয়েটার মঞ্চ ও পথনাটক মিলিয়ে ৪০টির মতো প্রযোজনা মঞ্চায়ন করেছে।

মুনতাসির ফ্যান্টাসি, ধূর্ত ওই, কেরামত মঙ্গল, কিত্তনখোলা, ত্রিরত্ন, শকুন্তলা, হাতহদাই, যৈবতী কন্যার মন, চাকা, বনপাংশুল, বিনোদিনী, প্রাচ্য, মার্চেন্ট অব ভেনিস, একাত্তরের পালা, দ্য টেম্পেস্ট, নিমজ্জন ঢাকা থিয়েটারের দর্শক নন্দিত নাটকগুলোর মধ্যে অন্যতম।

মহামারীকালে নাট্যাঙ্গনে সরব রয়েছে ঢাকা থিয়েটার। 'একটি লৌকিক অথবা অলৌকিক স্টিমার' নামে নতুন একটি নাটক নিয়ে এসেছে দলটি। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন শহীদুজ্জামান সেলিম।

ঢাকা থিয়েটারের তত্ত্বাবধানে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বাংলা সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি গ্রাম থিয়েটার। 

আফজাল হোসেন, হুমায়ুন ফরীদি, সুবর্ণা মুস্তাফা, রাইসুল ইসলাম আসাদ, জহির উদ্দিন পিয়ার, শহীদুজ্জামান সেলিমের মতো শিল্পীর ঢাকা থিয়েটারের নিয়মিত অভিনয় করেছেন।

নাসির উদ্দিন ইউসুফ জানান, বৃটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় ‘বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের’ জন্য ‘সুন্দরম’ প্রকল্পের মাধ্যমে অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সংযুক্ত করার এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা থিয়েটার।