‘ইভা রহমান নই, আমি এখন ইভা আরমান’

মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে দাম্পত্যজীবনের ইতি টেনেছেন ইভা রহমান; ঢাকার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে নামের পদবি পরিবর্তন করে হয়েছেন ইভা আরমান।

গ্লিটজকে সোমবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এটিএন বাংলার চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিচ্ছেদ এবং এখন এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিয়ের আদ্যোপান্ত বলেছেন এই কণ্ঠশিল্পী।

গ্লিটজ: ফেইসবুকে আপনার বিয়ের ছবি এসেছে।

ইভা: হ্যাঁ। রোববার গুলশানের বাসায় ঘরোয়া আয়োজনে পারিবারিকভাবে আমরা বিয়ে করেছি। স্বামীর নাম সোহেল আরমান, ঢাকার ছেলে। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। আমার কিছু আত্মীয়-স্বজন, ওর বাবা-মা ভাইবোন, বোনের স্বামী ‍উপস্থিত ছিলেন। ছোট আয়োজনে কয়েকদিন পর আমাদের রিসিপশনের চিন্তা-ভাবনা করছি।

গ্লিটজ: তার সঙ্গে পরিচয় কীভাবে?

ইভা: খুবই সিম্পলি। একটা মানুষের সঙ্গে আরেকটা মানুষের যেভাবে পরিচয় হয় সেভাবেই। কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই কিংবা সে আমাকে অনেকদিন ধরে চেনে-ব্যাপারটা ওই রকম কিছু না। এক অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। শুরুতে ওই রকম খুব বেশি কথা হত-তা না, পরে একটা সময় ফোনে একটু বেশিই কথা হত। সে আমার সম্বন্ধে জানতে চাইত। আমি আমার লাইফ সম্বন্ধে বলেছি। তার লাইফ সম্বন্ধে শুনেছি। তখন মনে হয়েছে, আমাদের মন-মানসিকতা প্রায় একই রকম; আমরা একসাথে ভালো থাকব।

তার চেয়ে বড় কথা হল- আমার ছেলে মারুফকে ও অনেক ভালোবাসে, ছেলেও ওকে অনেক ভালোবাসে। দু’জনের মধ্যে বন্ডিংটা সবচেয়ে বেশি জরুরি ছিল। আমি সবসময় সেকেন্ড কিছু ভাবতে ভয় পেতাম। কিন্তু আমি যখনই ফিল করলাম, মারুফের প্রতি ওর আলাদা সখ্যতা আছে তখন ভয় কেটে গেছে।

ফেইসবুকে পোস্ট করা ছবিগুলোতে দেখবেন আমার ছেলেও পাঞ্জাবি পরে দাঁড়িয়ে আছে। ছবিগুলোও আমার ছেলেই তুলেছে। তার আগে আমি আরেকটা বিষয় কথা বলতে চাই।

গ্লিটজ: বলুন।

ইভা: অনেকে জানে কি না- তা আমি জানি না। ২০০৩ সালে মাহফুজুর রহমানের সাথে আমার বিয়ে হয়। ২০০৬ সালে আমাদের ছেলে মারুফের জন্ম হয়। ও এখন ক্লাস নাইনে পড়ে। ২০১২ থেকে আমরা আলাদা থাকা শুরু করি। আমি আর আমার ছেলে গুলশানের বাসায় থাকতাম। আর উনি (মাহফুজুর রহমান) বনানীর বাসায় থাকতেন।

ছবি: ফেইসবুক থেকে।

সবশেষ ৯ বছর ধরে আমরা আলাদা থাকছিলাম। এক সময় আমার মনে হল-এভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় কোনো সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে না। ৯ বছরে আমি সম্পর্কটা ঠিক করার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওই দিক থেকে কোনো সাড়া পাইনি। এক সময় মনে হয়েছে, আমার একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। চলতি বছরের ৪ জুন ডিভোর্সের পেপার সাবমিট করি। ১৭ সেপ্টেম্বর ডিভোর্সের সার্টিফিকেট হাতে পাই। ১৯ সেপ্টেম্বর ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করি।

গ্লিটজ: বিয়ের পর ফেইসবুকে আপনার নাম পরিবর্তন করেছেন।

ইভা: হ্যাঁ। ইভা রহমান নই, আমি এখন ইভা আরমান। আমার জীবনে এত বড় পরিবর্তন ঘটে গেল সেখানে নাম পরিবর্তনটা তো খুব সামান্য একটা বিষয়।

গ্লিটজ: মাঝে কয়েক বছর ধরে আপনাকে গানে দেখা যায়নি।

ইভা: ২০১৬ সালের পরে আমি গান করিনি। তখন কেউ জানতে চাননি, কেন গান করছি না। অনেকে আমাকে ভুলেই গেছেন। এটাই সত্যি। আমি কোনো নিউজের হেডলাইন হওয়ার জন্য বিয়েটা করিনি। আমি নয়টা বছর একা কাটিয়েছি। আমার ছেলেটাকে নিয়ে আমার বাসায় একা ছিলাম। আমার লাইফ, ক্যারিয়ারের সব কিছু বন্ধ করে দিয়েছি। এখন যিনি আমার পাশে আছেন তিনি আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দেয়।

ও (সোহেল আরমান) আমাকে বলে, ইভা, বছরে দুইটা অ্যালবাম, দশটা-বিশটা গান করার দরকার নেই। বছরে একটা গান করো, যারা তোমাকে পছন্দ করে, তোমার গান শুনতে চায়-তারা ওই একটা গানই দেখবে। কোয়ালিটিফুল গান করো, এই রকম চ্যানেলে গান করার দরকার নেই।

গ্লিটজ: আপনি বলছিলেন, গানের বাইরে ছিলেন। সেটা কি আপনার ব্যক্তিগত জীবনের নানা সঙ্কটের কারণে?

ইভা: এই ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি। আমি আবার গানে আসব ইনশাল্লাহ।

গ্লিটজ: তাহলে কী ধরনের পরিকল্পনা করছেন?

ইভা: আগের মতোই। সুস্থ-সাবলীল গান করব। আমি এমন কোনো গান কখনোই করিনি, যেটা খুব উত্তেজনাপূর্ণ কিংবা খুব সহজেই সুপারহিট হওয়া যাবে, দর্শকদের খুব কানে লাগবে। আমার ২৪টি অ্যালবাম রিলিজ হয়েছে। সবসময় সাবলীল গান করেছি। হয়তো বা সেকারণেই আমি খুব বেশি ফেমাস হইনি। আমি আগামীতেও সাবলীল গানই করব।

ছবি: ফেইসবুক থেকে।

আমি যখনই গান করেছি তখনই গানের কথাকে ‍গুরুত্ব দিয়েছি। এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করিনি যেখানে অশ্লীলতা তুলে ধরা হয়েছে। অনেকে আমার গান নিয়ে ট্রল করেছে, ‘গানের পাখি ইভা রহমান’, ‘ইভা রহমানের গান দেখলে ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক কিছু দেখা যায়, শাড়ি-টাড়ি দেখা যায়।’ ইনশাল্লাহ আগামীতেও রং-বেরঙের শাড়িও দেখা যাবে, আমি আমার এই ট্রেন্ডটা রাখব। (হাসি)

গ্লিটজ: যারা আপনাকে নিয়ে ট্রল করেন তাদের জন্য কোনো বার্তা দিতে চান?

ইভা:  ট্রল যারাই করেন না কেন সেটা যেন গঠনমূলক হয়। অনেকসময় সমালোচনা ফলে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন মনে হয়, আমি দর্শকদের গান উপহার দেওয়ার জন্য এত কিছু করলাম আর আমিই এত ট্রলের সম্মুখীন হলাম! এত সমালোচনার সম্মুখীন হলাম।

আমার মনে হচ্ছে, দম বন্ধ হয়ে আমি মরে যাব। সমালোচনা হতে পারে। তবে সেটা এরকম হওয়ার উচিত, উনি গানটা এভোবে গেয়েছেন, এভাবে গাইলেই পারতেন। আরেকটু ভালো গাইলে পারতেন বা উনার কণ্ঠে আমরা এই ধরনের গান শুনতে চাচ্ছি।