‘নোংরামির’ শিকার হয়েছি, বললেন জায়েদ খান

জায়েদ খানের সঙ্গে থাকা শিমুর ভাই চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী শহীদুল ইসলাম খোকন হত্যাকাণ্ডের জন্য শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেলকে দায়ী করেন।
অভিনয়শিল্পী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ডের পর ‘নোংরামির’ শিকার হওয়ার কথা বলেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

সোমবার শিমুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের পর এর সঙ্গে জায়েদ খানকে জড়িয়ে সোশাল মিডিয়ায় লেখা আসে কারও কারও।

শিল্পী সমিতির নির্বাচনে জায়েদ যখন আবার সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন, তখন এই ধরনের কথাকে উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে মঙ্গলবার শিমুর ভাইকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন জায়েদ।

তিনি বলেন, “আজকে একজন শিল্পী হয়ে এভাবে নোংরা জিনিসের জন্য দাঁড়াতে হবে, তা আমি আশা করি নাই। শিল্প সমিতির নির্বাচন নিয়ে যে নোংরামি শুরু হয়েছে, তার অবসান হওয়া দরকার।”

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহযোগী সদস্য ছিলেন শিমু; ২০১৭ সালে পূর্ণ সদস্যপদ হারানোয় সমিতির ভোটাধিকার হারান এ অভিনয়শিল্পী।

পূর্ণ সদস্যপদ ফিরে পেতে সবশেষ দুই বছরে এফডিসিতে বিভিন্ন বিক্ষোভ সমাবেশে শামিল হয়েছিলেন তিনি; শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে থাকা মিশা সওদাগর-জায়েদ খানদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

গত ১২ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদের সঙ্গে শিমুর কথা কাটাকাটি হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনাকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে জায়েদ বলেন, “আমি দুই বছরধরে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছিলাম। গত দুই বছরে শিমুর সঙ্গে আমার সামনাসামনি দেখা বা ফোনে কথা কোনোটাই হয়নি।”

তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারে’ তিন-চারজনকে সামনে রেখে ‘কল কাঠি নাড়ছে’ অন্য কেউ।

শিমুকে ‘শ্বাসরোধে’ হত্যার পর লাশ ভরা হয়েছিল বস্তায়  

জায়েদ বলেন, শিল্পী সমিতি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং তাকে ‘ছোট’ করার জন্য যারা তার ‘পেছনে লেগেছে’, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

জায়েদ খানের সঙ্গে থাকা শিমুর ভাই চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী শহীদুল ইসলাম খোকন হত্যাকাণ্ডের জন্য শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেলকে দায়ী করেন।

রাইমা ইসলাম শিমু

পরে পুলিশও জানায়, ‘দাম্পত্য কলহের জের ধরে’ স্বামী নোবেল হত্যার পর তার বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদের সহায়তা নিয়ে শিমুর লাশ গুম করেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছে।

জায়েদ খান বলেন, “আজকে এই কাজটা (স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা ও আটক) না হত, তাহলে আপনারা বলতেন জায়েদ এটার সঙ্গে জড়িত, শিল্পীরা এগুলো করবে?”

কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে ১৯৯৮ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে শিমুর। পরের বছরগুলোতে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চাষি নজরুল ইসলাম, শরিফ উদ্দিন খান দিপুসহ আরও বেশ কয়েকজন পরিচালকের প্রায় ২৫ সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে দেখা যায় তাকে। শাকিব খান, অমিত হাসানসহ কয়েকজন তারকার সঙ্গেও তিনি কাজ করেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি কয়েকটি টিভি নাটকে অভিনয় এবং প্রযোজনাও করেছেন।

তার ফেইসবুক পেইজে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি বাণিজ্য বিষয়ক সাময়িকী, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের বিপণন বিভাগে কাজ করার পাশাপাশি একটি প্রডাকশন হাউজও চালাতেন এই অভিনেত্রী।