মুজিব: সমালোচনার জবাব দিলেন শ্যাম বেনেগাল

‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রের ট্রেইলার দেখে সমালোচনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল; মূল্যায়নের জন্য সিনেমাটির মুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন তিনি।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের বর্ণিল আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের প্রকাশিত ট্রেইলার নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রোববার টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়াকে তিনি বলেন, ৯০ সেকেন্ডের ট্রেইলার দেখে সিনেমা নিয়ে মন্তব্য করা যায় না; ট্রেইলার দেখে ট্রেইলার নিয়েই মন্তব্য করতে হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী অবলম্বনে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটের সিনেমাটি নির্মাণ করছেন বলিউডের খ্যাতনামা চলচ্চিত্রকার শ্যাম বেনেগাল।

ট্রেইলার দেখে এ সিনেমায় বঙ্গবন্ধুর চরিত্রাভিনেতা আরিফিন শুভর অভিনয়, লুক ও কণ্ঠ, সিনেমার চিত্রগ্রহণ ও ভিএফএক্সের কাজসহ নানা বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ঢাকার চলচ্চিত্র নির্মাতা, গবেষকসহ অনেকেই।

গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ ফেইসবুকে লিখেছেন: “...কী বলব বুঝতে পারছি না, বিশাল বাজেটের সিনেমার এই ভিএফএক্স! শুভকে দেখতে ভালো লাগছে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পরিণত বয়সের চুল আর শুভর ডায়লগ ডেলিভারিটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। দয়া করে শুভর ভয়েস আবার ডাব করেন। আমাদের কাছে বিখ্যাত কোনো পরিচালকের চেয়ে বঙ্গবন্ধু অনেক বড়। বঙ্গবন্ধুর সিনেমা বঙ্গবন্ধুর মতো হতে হবে।”

ট্রেইলার থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে দুইটি ছবি ফেইসবুকে পোস্ট করে প্রযোজক, নির্মাতা জসিম আহমেদ লিখেছেন: “১২০ কোটি টাকার শ্রাদ্ধ করে এই ভিএফএক্স, এই গ্রিন স্ক্রিন লাইটিং? টিচারের কাম দেখে ছাত্রদের লজ্জা লাগতেছে।”

‘গণ্ডি’ নির্মাতা ফাখরুল আরেফিন খান লিখেছেন: “দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ দিনটা শুরু করেছি...(মুজিব মেকিং অব এ নেশন)।”

নির্মাতা কৌশিক শঙ্কর দাস লিখেছেন: “পুরো সিনেমাটা রিশুট করা যায় না? যদিও আমার নিজের কোনো প্রত্যাশা ছিল না, তাই হতাশ বা খুশি কোনোটাই হইনি। কিন্তু সবার প্রতিক্রিয়া দেখে এটা ছাড়া তো আর কোনো উপায় দেখছি না।”

চলচ্চিত্র গবেষক মীর শামসুল আলম বাবু এক ফেইসুক পোস্টে অভিযোগ করেন, সিনেমায় ইতিহাসের পাঠ ঠিকঠাকভাবে উঠে আসেনি।

সিনেমায় বঙ্গবন্ধুর ভূমিকায় আরেফিন শুভ।

নির্মাতা, গবেষকসহ অনেকের সমালোচনা না দেখলেও কয়েকজনের সমালোচনা দেখেছেন জানিয়ে শ্যাম বেনেগাল বলেছিলেন, “কয়েকজনের মন্তব্য আমি দেখেছি, তারা কেন মর্মাহত তা আমার পক্ষে বোঝা মুশকিল। কানে সিনেমার ট্রেইলারটি প্রশংসিত হয়েছে।”

ট্রেইলার প্রকাশের আয়োজনে কানের মার্শে দ্যু ফিল্মের ভারতীয় প্যাভিলিয়নে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং ভারতের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অনুরাগ সিং ঠাকুর।

ফ্রান্স থেকে সিনেমার কাস্টিং ডিরেক্টর (বাংলাদেশ) ও সহকারী পরিচালক বাহার উদ্দিন খেলন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কানে যারা ট্রেইলারটি দেখেছেন, তারা ‘অভিভূত’ হয়েছে। স্বাধীনতার বহু বছর পর দুই দেশের মধ্যে অনেক বড় একটি কাজ হচ্ছে। এই ধরনের কাজ স্বাধীনতার পরই হওয়া উচিৎ ছিল।

সমালোচনার বিষয়ে খেলন বলেন, “অনেকগুলো মন্তব্য আমরা দেখেছি। যে কোনো শতভাগ মানুষের ভালো নাও লাগতে পারে। সবার দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম না। সমালোচনাকে মর্যাদা দিচ্ছি। তারা আমাদেরই মানুষ। ওদের প্রত্যাশা যেমন ছিল সেই অনুযায়ীই সমালোচনা করেছে। তাদের সমালোচনাকে আমরা বিবেচনায় নিচ্ছি। যদিও সময় কম, তারপরও এসবের মধ্যেও যতটুকু সম্ভব বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।”

সমালোচনার পাশপাশি অনেকে সিনেমাটির প্রশংসাও করেছেন; তাদের মধ্যে বাংলাদেশের অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়াকে বলেন, সিনেমাটি দেখার জন্য তিনি উন্মুখ হয়ে আছেন।

‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমায় তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্রে নির্বাচিত হয়েছিলেন ফেরদৌস; ভিসা জটিলতায় ভারতে শুটিংয়ে যোগ দিতে না পারায় তার বদলে রিয়াজকে নেওয়া হয়।