‘মুজিব’ চলচ্চিত্রের বাজেট ৮৩ কোটি টাকা: বিএফডিসি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ নির্মাণে ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ভার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)।

বাংলাদেশের বিএফডিসি ও ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (এনএফডিসি) যৌথ প্রযোজনায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটের সিনেমাটি নির্মাণ করছেন শ্যাম বেনেগাল।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের মার্শে দ্যু ফিল্মে বর্ণিল আয়োজনে সিনেমার প্রকাশের পর চলচ্চিত্র নির্মাতা, গবেষকদের কেউ কেউ সিনেমার সমালোচনা করেছেন।

সিনেমার সমালোচনার পাশাপাশি বাজেট নিয়েও নানা তথ্য ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে; কেউ কেউ সিনেমার বাজেট ১২০ কোটি বলেও দাবি করছেন।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে ফ্রান্স থেকে সিনেমাটির নির্বাহী প্রযোজক ও বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সিনেমাটি নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৭০ কোটি রুপির সমঝোতা স্মারক চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি টাকা।

২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পক্ষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও ভারতের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভেদকর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

চুক্তি অনুযায়ী, মোট বাজেটের ৬০ ভাগ অর্থ বাংলাদেশের দেওয়ার কথা রয়েছে; সে হিসেবে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বাকি ৪০ ভাগ অর্থ ভারতের বিনিয়োগ করার কথা; বাংলাদেশি টাকায় যা ৩৩ কোটির বেশি।

চুক্তির এক বছর পর ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে মুম্বাইয়ের দাদাসাহেব ফিল্ম সিটিতে সিনেমার দৃশ্যধারণ শুরু হয়েছিল; আরও আগে থেকে দৃশ্যধারণ শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে তা সম্ভবপর হয়নি বলে জানিয়েছে প্রযোজকরা।

মুম্বাইয়ে সেট ফেলে বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি বানিয়ে মুম্বাইয়ে দৃশ্যধারণের পর করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল ও রেজিস্ট্রার ভবন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাকি অংশের দৃশ্যধারণ করা হয়েছে।

বাংলা ভাষায় নির্মিত সিনেমাটির জন্য শিল্পীসহ বেশিরভাগ কলাকুশলী বাংলাদেশ থেকেই নির্বাচন করেছেন নির্মাতা।

ছবি: ফেইসবুক থেকে

টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্যাম বেনেগাল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষার সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষার উচ্চারণের পার্থক্য রয়েছে। সেই ছন্দ ধরে রাখতে আমি শুধু বাংলাদেশি অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করেছি। কারণ তারা মুজিবকে খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারেন।”

সিনেমায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ; বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিনেমার জন্য মাত্র ১ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচিত হয়েছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুন নেছা মুজিবের চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা।

দৃশ্যধারণ শেষে সিনেমার পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল; সেপ্টেম্বরে দেশের সিনেমা হলে সিনেমাটির মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রযোজকরা।

এর আগে প্রচারের জন্য কানের মার্শে দ্যু ফিল্মের ভারতীয় প্যাভিলিয়নে সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশ করা হল; সেই আয়োজনে বাংলাদেশ ও ভারতের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও অনুরাগ সিং ঠাকুর উপস্থিত ছিলেন।

তাদের সঙ্গে বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন, আরেফিন শুভ, তিশাসহ আরও অনেকে ফ্রান্সে আছেন।

সিনেমায় তরুণী শেখ হাসিনার চরিত্রে নুসরাত ফারিয়া, কিশোরী শেখ হাসিনার চরিত্রে ওয়ানিয়া জারিন আনভিতা,  বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের (রেনু) কিশোরী বয়সের চরিত্রে প্রার্থনা দীঘি, শেখ রেহানার দুটি ভিন্ন বয়সের চরিত্রে থাকছেন সাবিলা নূর ও সামন্ত রহমান অভিনয় করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমানের চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী ও খায়রুল আলম সবুজ, বঙ্গবন্ধুর মা সাহেরা খাতুনের চরিত্রে দিলারা জামান ও সঙ্গীতা চৌধুরী, শেখ কামালের চরিত্রে শরীফ সিরাজ, সুলতানা কামালের চরিত্রে নাজিবা বাশার অভিনয় করেছেন।

জাতীয় চার নেতার মধ্যে আছেন সৈয়দ নজরুল ইসলামের চরিত্রে দেওয়ান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্রে রিয়াজ, কামরুজ্জামানের চরিত্রে সমু চৌধুরী ও মনসুর আলীর চরিত্রে খলিলুর রহমান কাদেরীসহ আরও অনেকে এতে অভিনয় করেছেন।

আরিফিন শুভ ছাড়া শিল্পীদের মধ্যে কে কত পারিশ্রমিক নিয়েছেন তা জানা যায়নি।

ট্রেইলার:

''