ডেঙ্গু: আরও ২৭৫ জন হাসপাতালে, শিশু ও যুবক বেশি

ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা মোহাম্মদ নবাব সাইকেল নিয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে এইডিস মশা ও ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করছেন। প্রতীকী মশা হাতে শাহবাগ এলাকায় দেখা যায় তাকে। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭৫ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও যুবকরাই বেশি।

তবে গত এক দিনে এইডিস মশাবাহিত এ রোগে কারও মৃত্যুর খবর আসেনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২১১ জন ডেঙ্গু রোগী ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে আরও ৬৪ জন।

গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের এবং ১০ বছরের কম বয়সী রোগীর সংখ্যা ছিল বেশি।

আক্রান্ত ২৭৫ জনের মধ্যে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশের বয়স ০ থেকে ১০ বছরের মধ্যে, ১৭ দশমিক ৮ শতাংশের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে, ২৩ দশমিক ৩ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ১৫ দশমিক ৩ শতাংশের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ৯ দশমিক ৮ শতাংশের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছিল।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছে ১ হাজার ৭২ জন ।

তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৫৭ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগে ২১৫ জন।

চলতি বছর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে ১৫ হাজার ৯৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৪ হাজার ৮৪৫ জন।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬২০ জন, আর ডেঙ্গুজ্বরে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।

গত অগাস্ট মাসে এই মৌসুমের সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬৯৮ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। আর মৃত্যু হয় ৩৪ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ডেঙ্গুতে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। তবে জুলাই থেকে রোগী বাড়ায় গত আড়াই মাসেই ৫৯ জন মারা যায় ডেঙ্গুতে।

২০১৯ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করায় এক লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন, এ বছরই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই ভাইরাস জ্বরে।

সে বছর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আসা ২৬৬টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ১৪৮ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল আইইডিসিআর।

পরের বছর তা অনেকটা কমে আসায় হাসপাতালগুলো ১ হাজার ৪০৫ জন ডেঙ্গু রোগী পেয়েছিল।