ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ থেকে বাঁচতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশপাশি বিশেষভাবে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, “আমাদের দেশে ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। কিডনি ও হার্টের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এই ব্যাপারগুলো যখন বেশি দেখা যাচ্ছে, তখন জনগণকে বলব যেসব স্বাস্থ্যবিধি মানলে সুস্থ থাকা যায়, সেগুলো মেনে চলুন।”

খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে সব ব্যাপারে সবাইকে ‘একটু বিশেষভাবে সচেতন’ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

রোববার সকালে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে যুক্ত হন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানস্থালে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “এদেশের মানুষ কারও কাছে হাত পেতে চলবে না। পরনির্ভরশীল না হয়ে আত্মনির্ভরশীল হবে। সেভাবেই আমরা আমাদের দেশকে গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি বলেন, “জনগণের মাঝে ক্যান্সার চিকিৎসা সহজলভ্য করতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে হৃদরোগ, কিডনি ও ক্যান্সার রোগীদের সেবা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাজেই আমরা চাই যে আমাদের দেশের মানুষ এগিয়ে যাবে।”

এ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দ্রুত এবং মানসম্পন্ন কাজ যেন হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।”

দেশের মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

চিকিৎসকদের গবেষণায় দৃষ্টি দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “নামী-দামি চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা দিতেই ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু কিছু সময় গবেষণার দিকে নজর দিলে দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু, পরিবেশ সবকিছু মিলিয়ে এই দেশের মানুষের কী কী ধরনের রোগবালাই হয় এবং তার প্রতিরোধ শক্তি কীভাবে বাড়ানো সেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”

করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন একটি দেশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন। দেশের প্রতিটি মানুষ অন্ন পাবে, বস্ত্র পাবে, বাসস্থান পাবে এবং চিকিৎসা সেবা পাবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য, যেটা জাতির পিতার একমাত্র স্বপ্ন ছিল।”

সেই লক্ষ্য অর্জনে আওয়ামী লীগ সরকার ইতোমধ্যে ‘অনেক দূর’ অগ্রসর হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অনুসরণ করে দেশের ভূমিহীন, গৃহহীনদের ঘর করে দেওয়া এবং প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার পাশপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।