কোভিড টিকার মেধাস্বত্ব ছাড় নিয়ে একটি ‘ফলাফলে’ পৌঁছনো গেছে: ডব্লিউটিও

ছবি: রয়টার্স
কোভিড-১৯ টিকার মেধাস্বত্ব ছাড়ের বিষয়ে আলোচনাকারী প্রধান চার অংশীদার একটি ‘ফলাফলের নথি’ প্রস্তুত করেছে, যা অন্য সদস্যদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)।

মঙ্গলবার ডব্লিউটিওর বরাতে রয়টার্স জানায়, সংস্থাটির মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-আইওয়েআলা আশা করছেন জুনের মধ্যে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। 

২০২১ সালে ডব্লিউটিওর দায়িত্ব নেওয়ার পর এর মহাপরিচালক এনগোজির মূল লক্ষ্যই ছিলো টিকা প্রাপ্তিতে সাম্য নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ১৮ মাস ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত ও সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছেন।

ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক রয়টার্সকে বলেন, “আলোচনার লক্ষ্য ছিলো কাজ করার মতো একটি সমঝোতায় উপনীত হওয়া।”

তিনি আশা করছেন, জুনের সম্মেলনে সংস্থার ১৬৪ সদস্য দেশ এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করবে এবং অনুমোদন দেবে।

“এটা আলোচনা ও দরকষাকষি এগিয়ে নেবে। আগামী মহামারীর জন্য অথবা এই মহামারীতে (টিকার) একটি ন্যায্য ভাগ নিশ্চিত করতে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

রয়টার্স জানায়, প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তিতে এখনও অনেক অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে গেছে, যার মধ্যে আছে মেধাস্বত্ব মওকুফের সীমা তিন বছর হবে নাকি পাঁচ বছর করা হবে।

মহাপরিচালক এনগোজি বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনা থেকে যে ফলাফলে উপনীত হওয়া গেছে তার পক্ষে আরও বিস্তৃত সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে, যার মধ্যে চীনের সমর্থনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।

তিনি জানান, বেইজিং ইঙ্গিত দিয়েছে তারা এই চুক্তিতে নিজেদের একটি উন্নত দেশ হিসেবে দেখতে ‘আগ্রহী’, তাই তাদের জন্য নিয়ম-নীতি কঠোর হবে।

এ বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় ডব্লিটিওর কার্যালয়ে চীনের মিশনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে পারেনি রয়টার্স।

চার বড় শক্তির এই সমঝোতাকে একটি বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে অনুমোদন করতে ডব্লিউটিওর ১৬৪ দেশের সবার সম্মতি দরকার। শুক্রবার এ বিষয়ে ডব্লিউটিওর একটি ‘ক্লোজ-ডোর’ সভা হবে।

এদিকে চিকিৎসা খাতের দাতব্য সংস্থা এমএসএফ এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করতে ডব্লিউটিওর সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “এই চুক্তি মহামারীর সময় চিকিৎসা সামগ্রীর জোগান পেতে জনগণের বাড়তি চাহিদা মেটানোর সমস্যা সমাধানে কোনো অর্থবহ সমাধান দেয়নি ... বরং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সঙ্কট মোকাবেলার ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করতে চলেছে।”