শিশুদের ‘রহস্যজনক’ হেপাটাইটিস, কারণ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

বিশ্বের ২০টি দেশে প্রায় ৩০০ শিশুর দেহে গুরুতর মাত্রায় হেপাটাইটিস শনাক্ত হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বিবিসি জানিয়েছে, যকৃতের এই অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। মহামারীর মধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রথম ওই প্রবণতা শনাক্ত করা হয়।

ডব্লিউএইচও বলছে, অ্যাডেনোভাইরাস নামের প্রচলিত একটি ভাইরাস করোনাভাইরাস মহামারীর পর নতুন করে ফিরে এসেছে। আর হেপাটাইটিস বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে অ্যাডেনোভাইরাসের নতুন উত্থানের যোগ থাকতে পারে।

হেপাটাইটিসে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত একটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ডব্লিউএইচও বলছে, গত ১ মে পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হেপাটাইটিস শনাক্ত হয়েছে ইউরোপে এবং বেশ কিছু শনাক্ত হয়েছে আমেরিকা, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায়।

প্রথম এই অস্বাভাবিক হেপাটাইটিসের ঘটনা ধরা পড়ে স্কটল্যান্ডে। ১০ বছরের কম বয়সী এক শিশুর দেহে এ রোগ ধরা পড়ে। এখন যুক্তরাজ্যে ১৪০ জন শিশুর সংক্রমণ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ হেপাটাইটিস আক্রান্ত শিশুর যকৃতে মৃদু প্রদাহ রয়েছে। অবশ্য ১০টি শিশুর যকৃত প্রতিস্থাপন করতে হয়েছে। প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে শিশুদের বমি ও ডায়রিয়া ছিল। এর সঙ্গে ত্বক বা চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়ার উপসর্গও দেখা গেছে।

যেসব হেপাটাইটিস ভাইরাস (এ, বি, সি, ডি ও ই) সাধারণত এসব উপসর্গ তৈরি করে, সেগুলোর কোনটিই আক্রান্ত শিশুদের কারো দেহে ধরা পড়েনি।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিষয়টি তুলে ধরার পর, বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত শিশুদের এই যকৃতের রোগের কারণ জানতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, বিরল এই শারীরিক পরিস্থিতি নিজে থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে এমনটি বিশ্বাস করার কোনো কারণ এখনও পাওয়া যায়নি।

স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় আক্রান্ত

ডব্লিউএইচও বলছে, তারা এখনও নিশ্চিত নয় যে এটা হেপাটাইটিসে আক্রান্ত বাড়ার ঘটনা, নাকি এই শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা বাড়ার ঘটনা, যা হয়তো অন্য সময়ে চোখে পড়েনি।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোভিড মহামারীর পর তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় ছড়াচ্ছে অ্যাডেনোভাইরাস। সে কারণেই তাদের ধারণা, শিশুদের যকৃতের ওই সংক্রমণের পেছনে অ্যাডেনোভাইরাস একটি কারণ হয়ে থাকতে পারে।  

যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত শিশুদের তিন-চতুর্থাংশের দেহে অ্যাডেনোভাইরাস পাওয়া গেছে এবং এদের এক-চতুর্থাংশের রক্তে অ্যাডেনোভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন, যা এফ৪১ নামে পরিচিত, পাওয়া গেছে।

একই ধরনের অ্যাডেনোভাইরাসের ধরন শনাক্ত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত শিশুদের দেহে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, কোভিড মহামারীর কারণে গৃহবন্দি থাকার কারণে কম বয়সী শিশুদের সামাজিক মেলামেশা কমে যাওয়ায় তারা সাধারণ ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেনি, তাই তাদের দেহে আগে থেকে এর বিরুদ্ধে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি।

এমনিতে স্বাভাবিক পরিবেশে ৫০ ধরনের অ্যাডেনোভাইরাসের বিচরণ, যার কারণে সাধারণত ঠাণ্ডা-সর্দি হয় এবং মাঝে মাঝে শারীরিক দুর্বলতা ও ডায়রিয়াও হয়ে থাকে। এ ভাইরাসের সংক্রমণে সুস্থ শিশুদের হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়া বিরল ঘটনা।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, অ্যাডেনোভাইরাসকে একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এর জন্য দায়ী সম্ভাব্য অন্যান্য কারণ নিয়েও অনুসন্ধান চলমান।