আমরা মিলে গেছি: নোবেল

স্ত্রীর কাছ থেকে তালাকের নোটিস পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে আলোচনায় থাকা তরুণ গায়ক মাঈনুল আহসান নোবেল দাবি করছেন, বিচ্ছেদ ভুলে একসঙ্গে সংসারে ফিরছেন তারা।

গত ১১ সেপ্টেম্বর নোবেলকে তালাকের নোটিস পাঠান তার স্ত্রী মেহেরুবা সালসাবিল মাহমুদ;ভালোবেসে দুই বছর আগে সংসার বেঁধেছিলেন তারা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তুলে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছেন তারা।

সোমবার এক ফেইসবুক পোস্টে তাদের মিটমাটের খবর দেওয়ার পর গ্লিটজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বলেছেন নোবেল। 

গ্লিটজ: ফেইসবুক পোস্টে এক হওয়ার খবর দিয়েছেন।

নোবেল: হ্যাঁ। আমি আর সালসাবিল মিলে গেছি। আমাদের সব সমস্যা মিটে গেছে।

গ্লিটজ: আপনাদের বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলমান আছে; আনুষ্ঠানিকভাবে তার কোনো নিষ্পত্তি হয়েছে?

নোবেল: আমার উপর রাগ করে ও (সালসাবিল) ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিয়েছে। ও ভেবেছে, ডিভোর্স একটা অপশন। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে বড় হয়েছি, আমাদের কাছে ডিভোর্স কোনো অপশন না। আমি ডিভোর্স পেপার পাওয়ার পর খুব বেশি লাফালাফি করেছিলাম; ভেবেছিলাম, ‘ডিভোর্স হয়ে গেছে ভালো হয়েছে’। কিন্তু দুই বছর একটা মেয়ের সঙ্গে সংসারের পর চিরতরে আলাদা হয়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।

গ্লিটজ: আপনারা সংসারে ফিরেছেন কবে?

নোবেল: আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি ফিরতে পারব। আমার সার্বিক কর্মকাণ্ড খুব একটা ভালো না। আমার বেশি প্রবলেম। আমার স্ত্রীর প্রবলেম নেই- ব্যাপারটা তাও না। ও একটু রাগী প্রকৃতির। ও যেটা বলবে সেটাই। আমার ওয়াইফ আমার ব্যাপারে অভিযোগ তুলেছে সেটা নিয়ে আমার কোনো যায়-আসে না। স্বামীর বিরুদ্ধে ও যা খুশি তাই বলতে পারে। তাকে নিয়ে আমি যেসব কথা বলেছি, তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

নোবেলকে তালাকের নোটিস পাঠালেন স্ত্রী  

ওয়াইফের কাছে, বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমাদের সংসারের কথা বাইরে নিয়ে আসা ঠিক হয়নি। আমি ঘরের রেষারেষি মানুষকে জানিয়েছি, এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ও ওর তরফ থেকে কী স্টেটমেন্ট দেবে- সেটা ওর ব্যক্তিগত বিষয়।

গ্লিটজ: বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে?

নোবেল: আমাদের কথা হচ্ছে। প্রেম করে বিয়ে করেছি তো, কথা না বলে খুব বেশি দিন থাকতে পারি না। সেক্ষেত্রে তার কথা হচ্ছে এবং সালসাবিলের মতামত তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করলেই ভালো হবে।

গ্লিটজ: আপনাকে যে তালাকের নোটিস পাঠানো হয়েছে আইন অনুযায়ী তিন মাস পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যযকর হওয়ার কথা; সেটা আটকানোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

নোবেল: ওগুলো কোনো ফ্যাক্ট না। ওগুলো কোনো প্রবলেম হবে না। মূল সমস্যা আমারই। আমি খুব বেপরোয়া। পুরুষ মানুষ সংসার করতে হলে এতো বেপরোয়া হলে হয় না। আমি আসতে আসতে বুঝতে শিখতেছি। বিচ্ছেদ কখনোই আমার কাছে কোনো অপশন মনে হয় না। কারণ আমরা বাংলা সংস্কৃতি ও ইসলামিক সংস্কৃতিতে বড় হয়েছি। আমার একটাই বক্তব্য থাকবে, বিচ্ছেদ কখনোই কোনো সমাধান না। এটা কোনো অপশনই না।

গ্লিটজ: আপনি তার সঙ্গে থাকতে চান, তিনি চান কি না?

নোবেল: সালসাবিলও এটাই চায়। আমি জানি, আমার কর্মকাণ্ড খুবই খারাপ।

গ্লিটজ: জীবন নিয়ে নতুন কোনো উপলব্ধি হয়েছে?

নোবেল: রাতারাতি নিজেকে নিজের চেঞ্জ করা যায় না। সালবাবিল বরাবরই আমার প্রতি অনেক ধৈর্য্যশীল। দুই বছর যাবৎ ও আমাকে দেখতেছে। ডিভোর্স লেটারটা আমাকে ওয়ার্নিং হিসেবে পাঠিয়েছে। আমাকে ছেড়ে সারাজীবনের জন্য চলে যাবে কিংবা অন্য কারো সঙ্গে সংসার বাঁধার কোনো উদ্দেশ্য নাই। আমাদের দুজনের ‍দুজনের প্রতি টান আছে। এই সম্পর্ক আমার মনে হয় না, ভাঙার মতো। আমি যদি নিজেকে একটু সংযত রাখি ও কোথাও যাবে না।

(নোবেলের বক্তব্যের বিষয়ে মেহেরুবা সালসাবিল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলের তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।)