রসের খোঁজে

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ত্রিবেণী এলাকায় বাড়ি আকবর আলীর। ৮৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ ৭৫ বছর ধরে খেঁজুরের রস বিক্রি করেন।

আকবর আলী এ বয়সেও গাছে উঠে রস সংগ্রহ করেন অনায়াসে। দশ বছর বয়স থেকে তিনি ভোরের আলো ফোটার আগে ছুটে যান খেজুরগাছে ঝুলে থাকা হাঁড়ি তুলতে। অভাবের কারণে ছোটবেলা থেকেই আকবরের ছেলে হোসেন আলীও (৫৩) একই ব্যবসা ধরেছেন।

আকবর আলী (৮৫)

বর্তমানে নিজের কোনো খেঁজুরগাছ নেই তাদের। অন্যের গাছ থেকে সংগ্রহ করে রস বিক্রি করেন বছরের প্রায় ছয় মাস। এতে করে গাছের মালিককেও দুই দিন অন্তর একদিন রস দিতে হয়। সঙ্গে রস দিয়ে তৈরি করে বিক্রি করেন গুড়।

গাছ চুইয়ে রস জমছে হাঁড়িতে

গাছি আকবর আলী জানান, ভোর থেকে শুরু করে প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১২ ভাড় রস বিক্রি হয় তাদের। বিক্রির পর সংগ্রহ করা অবশিষ্ট রস দিয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে তৈরি করেন গুড়। সেই গুড় বাড়িতে ও বাজারে বিক্রি করেন। পরিবারের খরচ চালানোর পর বছর শেষে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা অবশিষ্ট থাকে।

নিজস্ব পদ্ধতিতে তৈরি হয় গুড়

কনকনে শীত উপেক্ষা করে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের আলো ফোটার আগেই খেঁজুরের রসের খোঁজে ছুটে যান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শীত এলে খেঁজুরের রস খাওয়ার ধুম পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। ভ্যানে চেপে বা পায়ে হেঁটে ভিড় জমায় আকবর গাছির বাড়িতে। হাঁড়ি এনে ছেঁকে তুলে দেয় শিক্ষার্থীদের হাতে। সেসব আনন্দঘন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন তারা। রস পান করে শিক্ষার্থীরা যেমন উচ্ছ্বসিত তেমনি গাছিও শিক্ষার্থীদের রস খাওয়াতে পেরে আনন্দিত।

রসের খোঁজে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আরোশি আঁখি বলেন, “শীতের সকালে সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হলো রস খেতে আসা। শীতকালে ক্যাম্পাসে তেমন কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় না। ঘুম থেকে উঠে কনকনে ঠান্ডায় যখন এই জায়গাটায় আসি তখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মনের একটা আনন্দ মিশ্রন হয়ে ভালো লাগা কাজ করে।”

আকবর আলী বলেন, “স্বাধীনতার আগে থেকেই খেঁজুরের রসের ব্যবসা করছি। শীতকালে ভোরবেলা শিক্ষার্থীরা আমার কাছে রস খেতে আসে, এতে এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। আমার বাড়িতে একরকম উৎসবের সৃষ্টি হয়।”