করোনাভাইরাস ধ্বংস করার ‘ভিন্ন পদ্ধতি’

ছবি: রয়টার্স।
নাকে আয়োডিন দ্রবণের ব্যবহার, মাউথওয়াশ কিংবা অতিবেগুনি রশ্মি হতে পারে করোনাভাইরাস ধ্বংসের পদ্ধতি, চিকিৎসকদের কারও কারও এমনটাই দাবি।

করোনাভাইরাস আজও পুরো পৃথিবীতে তাণ্ডব ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই মহামারী সামাল দিতে এবং কার্যকর চিকিৎসা খুঁজে বের করতে।

তবে যতক্ষণ না টিকা বা চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার, সাবান ও জীবাণুনাশক দিয়ে হাত পরিষ্কার- মানুষের প্রধান হাতিয়ার।

গবেষণার মাধ্যমে সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যাতিত করোনাভাইরাস ধ্বংসের আরও কয়েকটি উপায় খুঁজে বের করেছেন গবেষকরা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল সেই উপায়গুলো সম্পর্কে।  

আয়োডিনের দ্রবণ

ইউনিভার্সিটি অফ কানেটিকাট স্কুল অফ মেডিসিন’য়ের গবেষকরা সম্প্রতি ‘প্রোভিন আয়োডিন’য়ের দ্রবণের সাহায্যে করোনাভাইরাস ধ্বংস করা চেষ্টা চালান।

পরীক্ষা চালান তিনটি নমুনা দ্রবণ নিয়ে যাতে ‘প্রোভিন আয়োডিন’য়ের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ০.৫ শতাংশ, ১.২৫ শতাংশ এবং ২.৫ শতাংশ।

পরীক্ষায় দেখা যায়, সবচাইতে কম মাত্রার ‘প্রোভিন আয়োডিন’ যুক্ত দ্রবণ অর্থাৎ ০.৫ শতাংশের দ্রবণই মাত্র ১৫ সেকেন্ডে করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম।

‘জেএএমএ অটোল্যারিঙ্গোলজি – হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি’ শীর্ষক সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

ব্যবহার পদ্ধতি: বিশেষজ্ঞরা বলেন, “শরীরে অন্যান্য অংশের তুলনায় নাকে ‘এইস-২ রিসেপ্টর’ থাকে সবচাইতে বেশি সংখ্যায়। আর এদেরকে ব্যবহার করেই করোনাভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং আক্রান্ত করে।

‘প্রোভিন আয়োডিন (পিভিপি-আই)’ সমৃদ্ধ ‘নেজাল ডিসইনফেকট্যান্ট’ নাকের ভেতরে প্রয়োগ করে জীবাণু ধ্বংস করা যাবে। এতে নাকের ভেতরে ইতোমধ্যে প্রবেশ করা জীবাণুর মাত্রা কমিয়ে আনা যাবে এবং ‘কোভিড-১৯’য়ের আশঙ্কা এবং তীব্রতা কমানো সম্ভব হবে।

তবে সাধারণ মানুষকে ঘরে বসে এই উপাদান ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন গবেষকরা। শুধুমাত্র চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানেই এই উপাদান ব্যবহার করা যাবে।

মাউথওয়াশ

‘ফাংশন’ শীর্ষক চিকিৎসা বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকীতে বলা হয়, “মাউথওয়াশ দিয়ে মুখের ভেতরে থাকা করোনাভাইরাস ধ্বংসের সম্ভাবনাকে একেবারে নাকচ করে দেওয়া যায় না। ‘অ্যালকোহল’ সমৃদ্ধ ‘মাউথওয়াশ’ দিয়ে কুলকুচি করার মাধ্যমে মুখ ও গলার ভেতরে থাকা ভাইরাসের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব, যা ‘কোভিড-১৯’য়ে আক্রান্ত হওয়া ঝুঁকি কমাবে। তবে এবিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও বিস্তর গবেষণা ও পরীক্ষার প্রয়োজন আছে।”

অতিবেগুনি রশ্মী

“২২২ ন্যানোমিটার ‘ওয়েভলেংথ’য়ের ‘আল্ট্রাভায়োলেট সি লাইট’ করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম বলে দাবি করেছে ‘আমেরিকান জার্নাল অফ ইনফেকশন কন্ট্রোল’ শীর্ষক সাময়িকীতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা।

হিরোশিমা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই গবেষণা করেছেন।

গবেষকরা করোনাভাইরাস সংক্রমিত দ্রবণ এই পাত্রে নেন। দ্রবণটি শুকিয়ে গেলে পাত্রটির ওপর ‘আল্ট্রাভায়োলেট সি ২৪ সেন্টিমিটার ল্যাম্প’ থেকে আলো ফেলা হয়।

২২২ ন্যানোমিটার ‘ওয়েভলেংথ’য়ের ‘আল্ট্রাভায়োলেট সি লাইট’য়ে সংস্পর্শে আসার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে পাত্রে থাকা করোনাভাইরাসের ৯৯.৭ শতাংশ ধ্বংস হয়।

উল্লেখ্য, এই অতিবেগুনি রশ্মী মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়, কারণ তা মানুষের ত্বকের স্তর ভেদ করতে পারেনা।

আরও পড়ুন

করোনাভাইরাস: যেসব ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার অকেজো  

করোনাভাইরাস: কাপড় পরিষ্কারে সাবধানতা  

করোনাভাইরাস: মোবাইল জীবাণু মুক্ত করার উপায়  

ঘরে যেখানে জীবাণুর মাত্রা ভয়ঙ্কর