ত্বকের প্রকার সম্পর্কে ধারণা

ত্বকের সঠিক ধরণ না বুঝে প্রসাধনী ব্যবহার করলে তা থেকে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাবে না।

ত্বক-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিউআর এইট’য়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মিশেল স্কয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী ত্বকের পাচঁটি ধরণ ও তা চিহ্নিত করার কয়েকটি উপায় সম্পর্কে জানান হল।

সাধারণ ত্বক

বেশিরভাগ রূপচর্চার প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য থাকে সাধারণ ত্বক পরিচার্যার পণ্য তৈরি।

সাধারণ ত্বকের লক্ষণ হল: এটা খুব বেশি তৈলাক্ত বা শুষ্ক হবে না। সচরাচর  ‘ব্রেকআউট’ দেখা দেবে না। ক্ষুদ্র দৃশ্যমান লোমকূপ। দেখতে কোমল, মসৃণ ও আরামদায়ক লাগবে।

সাধারণ ত্বকে খুব একটা সমস্যা দেখা দেয় না। ফলে ত্বক নিয়ে তেমন একটা বিরক্তির উদ্রেক হয় না।

তৈলাক্ত ত্বক

ডা. মিশেল বলেন, “অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক হল ‘সেবোরোহিয়া’ বা ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন, যাকে সিবাম বলে। যা সিবাম গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয়। দেহের উপরের অংশে বিশেষ করে, পিঠ, মাথা, কপাল ও থুতনিতে বিস্তৃত।

সেবাসিয়াস গ্রন্থিগুলোর হরমোনের উদ্দীপনার কারণে বয়ঃসন্ধিকালে সেবোরোহিয়া দেখা দেয়। এছাড়াও, হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে যে কোনো বয়সে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও বংশগতি, মানসিক চাপ, তাপ ও আর্দ্রতার কারণে তৈলাক্ততার সমস্যা দেখা দেয়।

তৈলাক্ত ত্বকের লক্ষণ: ধোয়ার পরেও দ্রুতই মুখ চিটচিটে হয়ে যাওয়া। বড় উন্মুক্ত লোমকূপ। লালচেভাব। মোটা, অমসৃণ ত্বক। ঘন ঘনই ব্রণ দেখা দেয় এবং মাথার ত্বকও চিটচিটে হয়ে আসে।

শুষ্ক ত্বক

ডা. মিশেল বলেন, “শুষ্ক ত্বক ‘জেরোসিস’ হিসাবে পরিচিত এবং এটা আর্দ্রতার অভাব হিসেবে চিহ্নিত।”

শুষ্ক ত্বকের অধিকারীরা ত্বকের নানান অসুবিধা যেমন- একজিমা ও সোরায়েসেস দেখা দেয় যেটা ত্বকের অভ্যন্তরের প্রাকৃতিক কারণগুলো জন্য ঘটে। এছাড়াও, নানান কারণ যেমন- ঠাণ্ডা, রোদ ও বাতাস এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক উপাদান যেমন-এক্সফলিয়েটর, অ্যাসিড, রেটিনয়েড ও পরিষ্কারকের কারণেও ত্বক শুষ্ক হতে পারে।

শুষ্ক ত্বকের লক্ষণ: মলিন, টানটান, রুক্ষ, লালচেভাব। খসখসে, ফাটা, অস্বস্তি ও চুলকানির সমস্যা।

ত্বকের পরিচর্যা বা কোন প্রসাধনী ব্যবহারের সময় ত্বকে জ্বালাপোড়া বা যন্ত্রণা হতে পারে এবং ত্বককে মারাত্মক সংবেদনশীল করে ফেলে।

মিশ্র ত্বক

ডা. মিশেল বলেন, “মিশ্র ত্বক হচ্ছে সর্বাধিক সাধারণ প্রসাধনীর ত্বক এবং এতে ওপরের সব ধরনের ত্বকের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’

মিশ্র ত্বকের লক্ষণ: সাধারণত, টি জোন(কপাল, নাক, থুতনি) তৈলাক্ত থাকে এবং বাকি অংশ সাধারণ বা শুষ্ক হয়।

সংবেদনশীল ত্বক

একটি বিতর্কিত বিষয়। যদিও এটি বহুল প্রচারিত ত্বকের ধরণ এবং অধিকাংশ প্রসাধনী এই আঙ্গিকেই তৈরি করা হয়। তবে মিশ্র ত্বক আসলে কী, এটি কেনো হয় এবং এটি কীভাবে পরীক্ষা করে নির্ণয় করা যায় তা নিয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও মত বিরোধ রয়েছে।

সংবেদনশীল ত্বকের লক্ষণ: প্রসাধনী সহনীয়তায় সমস্যা। নানান রকম প্রতিক্রিয়া যেমন- জ্বলুনি, চুলকানি ও পোড়াভাব। মুখ পরিষ্কার করার পরে দৃশ্যমান নানা সমস্যা যেমন- দানা, লালচেভাব, চামড়া ওঠা ইত্যাদি দেখা দেয়।

নিজের ত্বকের ধরণ বুঝে সে অনুযায়ী প্রসাধনী বাছাই করে ব্যবহার করা হলে তা ত্বকের নির্দিষ্ট সমস্যা দূর করতে সহায়তা করবে।

ছবির মডেল: সারাহ ফারহা।

আরও পড়ুন

ত্বকের ধরন বুঝে খাদ্যাভ্যাস  

ত্বকের ধরন বুঝে লিপস্টিকের রং  

ত্বকের ধরন বুঝে মেইকআপ রিমুভার  

প্রসাধনী কেনার আগে যা মাথায় রাখবেন