রিটার্ন দাখিল করলেই কি কর দিতে হয়?

অর্থ আইন ২০২০ অনুযায়ী কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব টিনধারিকেই বাধ্যতামূলকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

প্রায়ই আমরা শুনে থাকি, আমি টিন নিয়েছি কিন্তু আমার আয় নাই। এখন আমি যদি রিটার্ন দাখিল করি তাহলে কি কর দিতে হবে?

এর সহজ উত্তর হল, আপনার যদি করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম না করে তাহলে কোনো কর দিতে হবে না।

যেমন- একজন গৃহিণী প্রতি মাসে কিছু করে সঞ্চয় করেন। এভাবে একটা নির্দিষ্ট সময় পরে এক লাখ টাকা হয়েছে। এবং এই টাকা দিয়ে তিনি সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। এখন সঞ্চয়পত্র কিনতে যেহেতু টিন লাগে তাই তিনি টিন নিয়েছেন।

বছর শেষে তিনি মুনাফা পেয়েছেন যা করমুক্ত সীমা অতিক্রম করেনি। কিন্তু আইন অনুযায়ী তাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। যেহেতু তার আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করেনি তাই তাকে কোনো কর দিতে হবে না। শুধু রিটার্ন ফরম পূরণ করে নির্ধারিত ট্যাক্স সার্কেল-এ জমা দিলেই হবে।

কর বর্ষ ২০২০-২১ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মাত্র এক পৃষ্ঠার একটি রিটার্ন ফরম চালু করেছে এই ধরনের ব্যক্তিদের কথা চিন্তা করে। খুব সহজেই এই রিটার্ন ফরম পূরণ করে আপনি রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। এর আগের একটি লেখায় এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছি।

আর যদি আপনার করযোগ্য আয় করমুক্ত আয়ের সীমা অর্থাৎ তিন লাখ টাকা অতিক্রম করে তাহলে আপনাকে কর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে কত কর দিতে হবে?

প্রথমে আপনি আপনার করযোগ্য আয়ের ওপর কর ধাপ অনুযায়ী কর হার ব্যবহার করে করদায় বের করবেন। করদাতার অবস্থান ভেদে ন্যূনতম কর রয়েছে।

আপনার অবস্থান যদি ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হয় তাহলে আপনার ন্যূনতম কর হবে পাঁচ হাজার টাকা। আর অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য চার হাজার টাকা।

এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যদি করদাতার অবস্থান হয় সেক্ষেত্রে ন্যূনতম কর হবে তিন হাজার টাকা।

আপনার অবস্থান যদি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হয় এবং উপরে উল্লেখিতভাবে কর গণনার পর যদি দেখা যায় আপনার কর আসছে তিন হাজার টাকা তাহলে আপনাকে ন্যূনতম কর হিসেবে পাঁচ হাজার টাকাই দিতে হবে।

কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় বিশেষত যারা চাকরি করেন তাদের ট্রান্সফার করা হয়। সেক্ষেত্রে করদাতা যে স্থানে সর্বাধিককাল অবস্থান করেছেন সে অবস্থান স্থল অনুযায়ী ন্যূনতম কর প্রদান করবেন।

আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, করদায় ন্যূনতম কর থেকে বেশি কিন্তু কর রেয়াত বাদ দেওয়ার পর করদায় ঋণাত্মক। সেক্ষেত্রেও উক্ত করদাতাকে ন্যূনতম কর দিতে হবে। অর্থাৎ, করদায় ন্যূনতম কর অপেক্ষা কম হলে অথবা কর রেয়াত বিবেচনার পর প্রদেয় কর ন্যূনতম করের কম, শূন্য বা ঋণাত্মক হলেও করদাতাকে তার অবস্থানভেদে যে ন্যূনতম কর আসে তা রিটার্ন দাখিল করার সময় দিতে হবে।

লেখক: জসীম উদ্দিন রাসেল, আয়কর পরামর্শক এবং প্রশিক্ষক।

আরও পড়ুন

সম্পদের বিবরণ দাখিল করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক না  

জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট বিবরণী সবার জন্য প্রযোজ্য না  

অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করলে যারা কর রেয়াত পাবেন  

এক পৃষ্ঠার রিটার্ন ফরম যাদের জন্য প্রযোজ্য  

২০২০-২১ কর বর্ষে ব্যক্তি করদাতার করের বোঝা কমবে