দাঁতে দাগ ফেলে যেসব খাবার

কফি বা সিগারেট ছাড়াও বিভিন্ন খাবার থেকে দাঁতে দাগ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্যান্ডিডকো ডটকম’ এর ‘ক্লিনিকাল গ্রোথ অ্যাম্বাসেডর’ ডা রোশান পারিখের ভাষায়, “দাঁতে দাগ হওয়ার দুটি প্রধান কারণ হল- দাঁতের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রা। এবং বয়স, বংশগতি, ওষুধ গ্রহণ ও পূর্বের সংক্রমণ ইত্যাদি।

ওয়েলঅ্যান্ড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “আমাদের বয়সের সঙ্গে দাঁত স্বাভাবিকভাবেই উজ্জ্বলতা হারায় এবং এনামেল- যা মূলত দাঁতকে সাদা এবং পাতলা রাখতে সাহায্য করে– তা স্বচ্ছ হয়ে যায়। ফলে অল্প ঘর্ষণেই দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাঁতে হলদেভাব দেখা দেয়।”

“এনামেল পাতলা হয়ে যাওয়া অনেকক্ষেত্রে বংশগত কারণেও হয়ে থাকে,” বলেন তিনি।

ডা. পারিখের মতে দাগ সৃষ্টি করে এমন খাবার খাদ্য তালিকায় থাকলে দাগ হতে পারে।

টমেটোর তৈরি খাবার ও গাঢ় রংয়ের সস

টমেটোর সস, বিবি-কিউ সস এমনকি কেইচাপ উচ্চ অ্যাসিডিক ও রঙিন যা দাঁতের এনামেলে দাগ ফেলতে পারে।

ডা পারিখ বলেন, “মসলা ও গাঢ় রংয়ের খাবার দ্রুত দাঁতে দাগ ফেলে। এমন খাবারের মধ্যে রয়েছে ভিনিগার, সয়া সস, কড়া সোডা যেমন- কোলা, ডার্ক চকলেট, কফি ইত্যাদি।”

উজ্জ্বল রংয়ের ফল

স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ডালিম ও রাসবেরি ইত্যাদি কড়া রংয়ের ফল। এগুলো দাঁতে দীর্ঘস্থায়ী দাগ সৃষ্টি করতে পারে বলে জানান ডা. পারিখ।

এসব ফলে থাকা ক্ষুদ্র অণু দাঁতের এনামেলের ছিদ্রে প্রবেশ করে এবং দাগ বসে যায়।

মুখের স্বাস্থ্য ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। তাই খাবার একেকজনের দাঁতের ওপর একেক রকম প্রভাব ফেলে।

দাঁতে দাগ পড়ার প্রবণতা থাকলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মাত্রা আরও বাড়তে থাকে।

স্পোর্টস ও শক্তিবর্ধক পানীয়

খেলাধুলার পানীয়তে বাড়তি চিনি যোগ করা থাকে।

ডা পারিখ ব্যাখ্যা করেন, “অতিরিক্ত চিনির যৌগ ব্যাক্টেরিয়া বাড়ায় যা দাঁতের এনামেলকে দুর্বল করে ফেলে।”

এগুলো অ্যাসিডিক হওয়াতে দাঁতে সহজেই দাগ ফেলতে পারে বলে দেখা গেছে ২০১২ সালে করা যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়’তে অবস্থিত ‘ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিন’য়ের গবেষণায়।

এই গবেষণায় জনপ্রিয় স্পোর্টস ও কোমল পানীয়গুলো ফ্লোরাইফডের মাত্রা, পিএইচ এবং টিট্রাটেবল অম্লতা পরিমাপ করা হয়েছিল।

এই গবেষণায় দেখা গেছে, স্পোর্টস ড্রিংক্স ও কোমল পানীয় এনামেল ভেঙে দিতে ও দাগ ফেলতে ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, শক্তিবর্ধক পানীয় দাঁতের জন্য খারাপ।

“শক্তিবর্ধক পানীয়তে টিট্রাটেবল অ্যাসিডিটির মাত্রা বেশি এবং তা এনামেল দ্রবীভূত করে যা স্পোর্টস ড্রিংক্সের তুলনায় দ্বিগুণ।”

খাবারের কারণে হওয়া দাগ দূর করার উপায়

ডা পারিখ বলেন, “খাবারের পরে এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্রাশ করা, ফ্লস ব্যবহার, দাঁত পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি দাঁতের সমস্যা ও দাগ কমাতে সহায়তা করে। দাঁতের ক্ষয় এড়াতে অম্লীয় খাবার খাওয়ার ১৫ মিনিট পর ব্রাশ করতে হবে।”

ইতোমধ্যে দাঁতে দাগ পড়ে থাকলে তা দূর করতে দাঁত সাদা করে এমন প্রসাধনী ব্যবহার করা ফলপ্রসু হতে পারে।

প্রত্যেকেরই দেহের রসায়ন ভিন্ন। তাই নিজের জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান পেতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

এতে আগের থাকা দাগ কমবে এবং এর সমাধান পাওয়াও সম্ভব বলে মনে করেন, ডা. পারিখ।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন

দাঁত ভালো রাখতে  

প্রাকৃতিকভাবে দাঁত সাদা করার উপায়  

দাঁত ব্রাশের পরপরই যা করা উচিত না  

যে সময় দাঁত মাজা জরুরি