প্রদাহের প্রদাহজনক ভাষা

ছবি: রয়টার্স।
মোটা বা চিকন বিষয় নয়, গুরুত্বপূর্ণ হল আপনি কতটা সুস্থ বা ‘ফিট’ আছেন।

সুস্থতার ক্ষেত্রে প্রদাহ একসময় বেশ আলোচিত বিষয় থাকলেও ‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া’র হৃদবিশেষজ্ঞ ড. ক্যারল ওয়াটসন মনে করেন, প্রদাহ খুব একটা ক্ষতিকর বা ভয়ানক নয়।

ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই চিকিৎসক বলেন, “প্রদাহ মানেই খারাপ কিছু নয়, এটা দেহের জীবাণু বা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সুস্থ থাকতে যথাযথ প্রদাহ ও প্রদাহ বিরোধী ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন।”

মানুষ স্বল্পমেয়াদী প্রদাহ এবং পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ অনুভব করে।

ড. ওয়াটসন বলেন, “প্রদাহনাশক খাবার হল এমন খাবার যা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না বরং প্রদাহ কিছুটা কমাতে বা এর সংক্রমণের স্থায়িত্ব কমাতে ভূমিকা রাখে।”

একই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা টিফানি রো বলেন, “ওজন ও স্বাস্থ্য ভালো রাখতে উপকারী খাবারের চেয়ে প্রদাহবিরোধি খাবার সম্পর্কে বেশি আলোচনা করা প্রয়োজন।”   

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রায়শই ‘ফোলা’, ‘ফাঁপা’ ও ‘পানি আসা’ শব্দের কথা শুনে থাকি। অনেকে মনে করেন, সুস্থ থাকার প্রদাহ হল চর্বি। চিকন হওয়া বা ওজন কমানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে সুস্বাস্থ্যের দিকে যদি মনোযোগ দেওয়া হয় তাহলে তা বেশি সন্তোষজনক হবে।”

ড. ওয়াটসন মনে করেন, খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বরং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকে মনযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, “উদ্বেগ ও মানসিক চাপ উচ্চ প্রদাহজনক। ‘স্ট্রেস হরমোন’ বা ‘সাইটোকাইঞ্জ’ রক্তনালীকে সংকুচিত করে। ফলে সঠিক পরিমাণ রক্ত সঞ্চালিত হয় না। এতে করে রক্তচাপ বাড়ে, একজিমা, বাহ্যিক ফোলাভাব ইতাদি দেখা দেয় যা প্রদাহ সৃষ্টি করে। অনেক সময় তা দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও প্রভাব ফেলে যা বাইরে থেকে দেখা যায় না।”

রো বলেন, “আমরা বংশগতি বা মানসিক চাপের দিকে মনোযোগ না দিয়ে কেবল খাবারের সমস্যার দিকেই মনোযোগ দেই।”

তার মতে, “আমরা খাবার নিয়ে চিন্তিত থেকে মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেই। খাবার এড়াতে গিয়ে অনেক সামাজিক অনুষ্ঠান বাদ দিতে হয় কারণ উৎসবে সাধারণত দুধের তৈরি, গ্লুটেইন ও শর্করা-জাতীয় খাবার দেওয়া হয়।”

সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে এসব খাবার এড়ানোর চেষ্টায় আমরা মানসিক চাপ সৃষ্টি করি। যা স্বাস্থ্যগত সমস্যা সৃষ্টি করে।

তাই উদ্বেগ ও মানসিক চাপ যতটা সম্ভব কমানোর পাশাপাশি প্রদাহরোধী খাবারগুলো প্রতি মনযোগ দিতে হবে বেশি।

আরও পড়ুন

প্রদাহ থেকে বাঁচার উপায়  

প্রদাহের ঝুঁকি কমায় যেসব পানীয়  

খাদ্যাভ্যাসে যোগ করুন প্রদাহনাশক খাবার