লেপ কম্বলের বাজার যেমন

দেশি লেপের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশি ‘কম্ফোর্টার’।

বাংলা মাসের হিসেবে শীতকাল এখনও আসেনি। তবে উত্তরের জেলাগুলোসহ গ্রামাঞ্চলে শীত নেমেছে ইতোমধ্যেই।

রাজধানীর শীতের চিত্রটা বরাবরের মতোই দ্বিধায় ঘেরা। সন্ধ্যায় অফিস শেষে বাড়ি ফেরা মানুষের স্রোতে অনেকের গায়েই শীতের কাপড় চোখে পড়ে। তবে ঘরে ফিরে তারাই আবার নাকি হালকা করে ফ্যান চালান।

বাজারে শীতের ছোঁয়া লাগতে দেরি হয়নি। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবারই শীতের পোশাকে দোকান সয়লাব এখনই। লেপ, কম্বল, ‘কম্ফোর্টার’ ইত্যাদির বিক্রিও শুরু হয়েছে।

তবে রাজধানীর শপিংমলগুলো শীতের অনুসঙ্গের ক্রেতার সমাগম এখনও হয়নি বলেই মন্তব্য করছেন দোকানিরা, বিশেষত, লেপ, কম্বলের দোকানে।

নীলক্ষেতের দুই পেট্রোল পাম্পের মাঝখানে অনেকগুলো এমন লেপ কম্বলের দোকান, যার মধ্যে একটি হলো বেঙ্গল বেডিং স্টোর।

এর কর্মচারি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “ভালো কম্বল বরাবরই বিক্রি হয় কম। প্রথমত, একটা পরিবারে একটি ভালোমানের কম্বল কয়েক বছর টিকে থাকে। আর ঢাকায় যেহেতু শীত পড়ে কম, তাই ভারী কম্বলগুলো প্রতিবছর হয়ত ব্যবহারও হয় না।”

“আবার দেশের বাইরে থেকে অনেকেই আত্মীয়দের জন্য কম্বল নিয়ে আসেন। সবমিলিয়ে তাই ভারী কম্বলের ক্রেতা খুব বেশি থাকে না। ঢাকায় পাতলা কম্বল বিক্রি হয় বেশি। ছাত্রাবাস ও মেস বাসায় থাকা শিক্ষার্থীরাই মূল ক্রেতা। ভালো কম্বলের ক্ষেত্রেও সিঙ্গেল পার্ট’য়ের কম্বলের চাহিদা বেশি থাকে,” বললেন তিনি।

কম্বলের দামদর সম্পর্কে সাজ্জাদ জানান, ‘ডাবল পার্টয়ের ‘ডাবল সাইজ’য়ের কম্বলের দাম দুই হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে। আর ‘সিঙ্গেল পার্ট’য়ের ‘ডাবল সাইজ’য়ের কম্বলের দাম দেড় হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা। চীন, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, জাপান থেকে এই কম্বলগুলো আনা হয়।”

কম্বলের ভালোমন্দ বিচার করার জন্য নির্ভর করতে হবে নিজের বিবেচনার ওপর।

পশমগুলো নরম হতে হবে, বুনন কতটা শক্ত তা বোঝার জন্য পশমগুলো টেনে দেখতে পারেন। ‘ডাবল পার্ট’য়ের কম্বলগুলোর সেলাই ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। কোনো কম্বলই গরম পানিতে পরিষ্কার করা চলবে না। ঠাণ্ডা পানিতে পরিষ্কার করতে হবে।

কমদামি কম্বলের খোঁজ পাওয়া গেল নিউমার্কেটের ভাসমান কম্বল বিক্রেতা সাইফুল মিঞার কাছ থেকে। সচরাচর ত্রাণ হিসেবে যে কম্বলগুলো দেওয়া হয় সেগুলো বিক্রি করেন তিনি।

দামদর সম্পর্কে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “সিঙ্গেল পার্ট ডাবল সাইজ’য়ের কম্বলগুলোর দাম পাঁচশ থেকে দেড় হাজার টাকা। ‘ডাবল পার্ট ডাবল সাইজ’য়ের দামও একই। সব ধরনের শীতে ‘রাফ ইউজ’ করা যাবে এমন কম্বলও আছে, ব্যবসায়ীরা এগুলোকে বলেন ‘ফাইভজি অ্যাম্বুশ’ কাপড়ের কম্বল, দাম এক হাজার টাকা।”

লেপ বানানোর খবর পাওয়া গেলো রাবেয়া বেডিং স্টোরের কর্ণধার মাসুম আফজালের কাছে।

তিনি বলেন, “লেপ বানানোর মূল উপকরণ বরাবরের মতোই কার্পাস তুলা। এই তুলারও আছে ভালো ও মন্দ দুটি ধরন। ভালোমানের কার্পাস তুলা দিয়ে একটি ‘চার বাই পাঁচ’ বা ‘ডাবল সাইজ’য়ের লেপ বানাতে খরচ পড়বে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। নিম্নমানের তুলা দিয়ে বানালে খরচ পড়বে দেড় হাজার টাকা।

ডাবল লেপ বানাতে তিন থেকে চার কেজি কার্পাস তুলার প্রয়োজন হয়। আর লেপের কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয় মার্কিন এবং মলমল কাপড়। কভার বা লেপের খোলসের জন্য খরচ পড়বে পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকা।

সিঙ্গেল লেপ বানাতে তুলা লাগে দুই থেকে তিন কেজি। তুলার মানভেদে খরচ পড়বে সাড়ে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা।”