মাল্টিভিটামিন কি আসলেও প্রয়োজন?

ছবি: রয়টার্স।
না বুঝে ‘মাল্টিভিটামিন’ গ্রহণ করলে উপকার নাও মিলতে পারে।

কোন বয়সে তা সেবন করা উচিত, কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকার পরেও এগুলো খাওয়া কি নিরাপদ? আসলেও কতটুকু কার্যকর? কোন ‘মাল্টিভিটামিন’টা খাওয়া উচিত?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কজন সেবনকারী জানেন।

বাল্টিমোর’য়ের ‘ইন্টারনাল মেডিসিন ফিজিশিয়ান’ ভিভেক চেরিয়ান ‘রিয়েলসিম্পল’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানান ‘মাল্টিভিটামিন’য়ের জটিল এই বিষয়গুলো সম্পর্কে।

মাল্টিভিটামিন কাদের জন্য উপকারী

ডা. চেরিয়ান বলেন, “৭০ বা তদূর্ধ বয়সের প্রায় ৭০ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক গড়ে প্রতিদিন একটি ‘মাল্টিভিটামিন’ সেবন করেন। তাই বলে অভ্যাসটাকে কখনই স্বাস্থ্যকর বলার উপায় নেই। কারণ ‘মাল্টিভিটামিন’ প্রয়োজন কি-না তার উত্তরটা সাধারণ হ্যাঁ কিংবা না দিয়ে হয় না।”

বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন ‘মাল্টিভিটামিন’ সবেন করলে তিনি সব ধরনের ভিটামিন একবারেই পেয়ে যাচ্ছেন, ফলে খাবার থেকে পর্যাপ্ত না পেলেও স্বাস্থ্যহানির কোনে সুযোগ থাকবে না।

ডা. চেরিয়ান বলেন, “এমনটা যে আসলেই হবে তার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, বরং অনেক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ‘মাল্টিভিটামিন’ খেয়ে আসলে কোনো উপকারই হয় না।”

তিনি আরও বলেন, “উপকার নেই আবার ক্ষতিও নেই। কারও ক্ষেত্রে এর উপকারিতা চোখে পড়ে। যেমন বয়সের সঙ্গে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, মেজাজের আকস্মিক তারতম্য ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া গতি কমাতে সহায়ক হতে পারে এই ‘মাল্টিভিটামিন’ সেবনের অভ্যাস।”

মোটকথা এই উপকারিতার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমান নেই বলে যে এর কোনো উপকারিতা নেই সেটা বলাও সঠিক নয়।

যাদের গ্রহণ করা উচিত

ডা. চেরিয়ান বলেন, “একজন মানুষ যদি স্বাস্থ্যকর ‍খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখেন, নিয়মিত ফল, সবজি, প্রোটিন, পরিপূর্ণ শষ্য ইত্যাদি খান তবে ভোজ্য উৎস থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যোগান হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ‘মাল্টিভিটামিন’ কোনো কাজে আসবে না।”

তবে সহজাতভাবেই ভিটামিন ডি এবং ই’য়ের অভাব থাকা মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। আর এই দুই ভিটামিন খাবার থেকে পাওয়া সহজ নয়। সেক্ষেত্রে ‘মাল্টিভিটামিন’ জরুরি।

“অপরদিকে কিছু ওষুধ শরীরের পু্ষ্টির ঘাটতি তৈরি করে। যেমন- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ডাই-ইউরেটিক’ ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়, যা জলবিয়োগের মাত্রা বাড়ানোর কারণে শরীরে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি সৃষ্টি হয়।

বুক জ্বালাপোড়া সারানো ওষুধ ভিটামিন বি টুয়েলভ শোষণ করার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ‘মাল্টিভিটামিন’ উপকারী হবে।

সঠিক ‘মাল্টিভিটামিন’ বেছে নিতে করণীয়

ডা. চেরিয়ান বলেন, “চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে ‘মাল্টিভিটামিন’ কিনে খাওয়াটা প্রচণ্ড বোকামি। পুষ্টি চাহিদা নির্ভর করে লিঙ্গ আর বয়সের ওপর। আবার এমন একটি বেছে নিতে হবে যা পুষ্টি উপাদানের দৈনিক চাহিদার পুরোটাই পূরণ করতে পারে।”

তবে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম আর ক্যালসিয়ামের মাত্রা ‘মাল্টিভিটামিন’য়ে কম রাখা হয় বরাবরই। এই বিষয়গুলো পরখ করে, প্রয়োজনীয়তা বুঝে কোনটা বেছে নিতে হবে সেই সিদ্ধান্তটা চিকিৎসকের কাছ থেকেই নিতে হবে।

 

আরও পড়ুন

এই সময়ে প্রয়োজনীয় যত ভিটামিন  

অতিরিক্ত ভিটামিনের কুফল  

প্রতিদিন মাল্টিভিটামিন খাওয়ার প্রভাব