‘রেড মিট’র ক্ষতিকর দিক

‘রেড মিট’য়ে থাকা পুষ্টিমান হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

অর্থাৎ খাবার তালিকা থেকে গরুসহ এই ধরনের প্রাণীর মাংস বাদ দেওয়া মানে হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো।

‘নেচার মাইক্রোবায়োলজি’ সাময়িকীতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক’য়ের গবেষকদের করা প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, রেড মিটের এল-কার্নিটাইন নামক রাসায়নিক উপাদান ট্রাইমেথালমাইন এন-অক্সাইড (টিএমএও) গঠনে প্রভাব রাখে। যা ভিন্ন ভিন্ন রকমের হৃদয়ের রোগের সৃষ্টি করে।

যদি শুধুই ‘রেড মিট’ খাওয়া হয়

৩ হাজার অংশগ্রহণকারীর প্লাজমা এবং মলের নমুনার ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা যায়, রেড মিটের মৌল অন্ত্রের কিছু নির্দিষ্ট ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে মিশে ‘টিএমএও’র মতো উপাদান তৈরি করে। যা উল্ল্যেখযোগ্য হারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।

আগের গবেষণায় দেখা গেছে, ধমনীর কোলেস্টেরলের সঙ্গে ‘টিএমএও’র সম্পর্ক রয়েছে। এতে হৃদঝুঁকি এমনকি স্ট্রোকেরও সম্ভাবনাও বাড়ে।

‘মেডিটারিয়ান ডায়েট কুকবুক ফর বিগিনার্স’ বইয়ের লেখক এবং ‘মেডিটারিয়ান ডায়েট রিসোর্স ‘অলিভ-টমেটো’ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এলিনা প্যারাভেন্টেস হারগিট বলেন, ‘রেড মিট’ খুব বেশি পছন্দের হয়ে থাকলে তা একবারেই বাদ দেওয়া সহজ নয়। তাই যতটা সম্ভব কম পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।”

মাংস খাওয়া একেবারে বাদ না দিয়ে বরং কম পরিমাণে খাওয়া যায়। আবার সপ্তাহে একদিন মাংস খাওয়া হবে না এমন নিয়ম মেনেও এর পরিমাণ কমানো যায়।

এটা খুব বেশি উপকারে না আসলেও খাবারের স্বাদে পরিবর্তন আনা সহজ হবে। আর পছন্দের তালিকায় অন্যকিছু যোগ করার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, সম্ভব হলে অন্যান্য ভেষজ প্রোটিন উপাদান ও সবজির সঙ্গে রেড মিট খাওয়া যেতে পারে। এতে পেট ভরা থাকে এবং পুষ্টির ঘাটতিও পূরণ হয়।

সপ্তাহে অন্তত দুতিন বার এই মেনু অনুসরণ করার পরামর্শ দেন, তিনি।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন

মাংস খাওয়া ভালো না খারাপ  

কয়লায় পোড়ানো খাবারে ঝুঁকি  

মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্যকর উপায়  

প্রতিদিন মুরগির মাংস খাওয়ার পরিণাম