আর্থ্রাইট্রিস প্রতিকারে উপকারী সম্পূরক

শুধু প্রতিরোধ নয় আর্থ্রাইটিস বা গেঁটেবাতের চিকিৎসায় ভালো ফল দিতে পারে ভিটামিন ই।

আর্থ্রাইটিস বা গেঁটেবাত হবেই না এরকম নিয়শ্চয়তা দেওয়া সম্ভব না। তবে জীবনযাত্রার বিভিন্ন অভ্যাস এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে পারে।

সেই সঙ্গে গেঁটেবাতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় এমন খাবার খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ‘রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস’ বা দীর্ঘস্থায়ী গেঁটেবাত হওয়া প্রতিরোধে এবং চিকিৎসায় ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট সাহায্য করতে পারে।

চীনের শানসি প্রদেশে অবস্থিত জিয়ান হংহুই হাসপাতালের গবেষকরা এই রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত ভিটামিনের সম্পূরকগুলো কীভাবে কাজ করে সেগুলোর বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তারা একাধিক গবেষণার ভিত্তিতে নয়টি উৎস সম্পর্কে জানতে পারেন। যেখানে প্রায় ৪০ হাজার অংশগ্রহণকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

দেখা যায়, যাদের দীর্ঘস্থায়ী গেটেবাঁতের সংবেদনশীলতা রয়েছে এবং সংযোগস্থল ফোলা তাদের ওপর ভিটামিন ই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।  

গবেষকরা যা বলছেন

এপ্রিলের শেষের দিকে ‘ইউরোপীয় জার্নাল অফ ক্লিনিকাল নিউট্রিশন’ প্রকাশিত এই গবেষণার বরাত দিয়ে ‘ইটদিসনটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, “ভিটামিন ই অন্ত্রের জটিলতা কমায় এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বা হজমতন্ত্রের গতি উন্নত করে যা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা দীর্ঘস্থায়ী গেঁটেবাত প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সহায়তা করতে পারে।”

গবেষকরা আরও লিখেছেন, “নিয়মিত ভিটামিন ই সম্পূরক গ্রহণ করা আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংযোগগ্রন্থির ব্যথা, ফোলাভাব, জড়তা কমাতে ও সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।”

তবে মনে রাখতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেল-ভিত্তিক ‘শ্যাম্পেইন নিউট্রিশন’য়ের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ এবং ‘অ্যান্টি-ইনফ্লামাটরি ডায়েট মিল প্রিপ অ্যান্ড হাউ টু ইট টু বিট ডিজিজ কুকবুক’য়ের লেখক, জিনজার হাল্টিন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সম্পূরক গ্রহণ করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

তিনি বলেন, “ভিটামিন ই সম্পূরক অন্যান্য সম্পূরক বা ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে। তাই গেঁটেবাত থাকলে সম্পূরক গ্রহণের আগেই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।”

যুক্তরাষ্ট্রের ‘দি সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)’ ব্যাখ্যা করে যে, রোগটি ‘অটোইমিউন’ এবং প্রদাহজনিত রোগ, যেখানে একজন ব্যক্তির নিজের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ভিত্তিতে তাদের কোষের সুস্থতা, ব্যথা ও ফোলাভাব নিয়ন্ত্রিত হয়।

এটি সাধারণত ওষুধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান করা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমানোর উপায়  

বাতের ব্যথার প্রাকৃতিক সমাধান  

অস্বাভাবিক পেশি ব্যথার কারণ