কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ওটস যেভাবে প্রভাব রাখে

খারাপ কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দিতে পারে ওটস।

প্রচলিত আছে ওটস বা ওটমিল খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। বিষয়টা সত্যি।

নর্দান ভার্জিনিয়ার পুষ্টিবিদ ও নারী স্বাস্থ-বিশেষজ্ঞ ক্যারলিন থমসনের ভাষায়, “দেহের বিভিন্ন ধরনের কোলেস্টেরলের ওপর ওটমিল যে পরিবর্তন আনে তা কিছুটা জটিল।”

ইটদিস নটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি ব্যাখ্যা করেন, “দেহে চার ধরনের কোলেস্টেরল রয়েছে। এলডিএল কোলেস্টেরল, এইচডিএল কোলেস্টেরল, সার্বিক কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড। আর কোলেস্টেরলের মাত্রাই সকল পার্থক্য সৃষ্টি করে।”

কোলেস্টেরল সম্পর্কে ধারণা: উচ্চ ও নিম্ন মাত্রা

এলডিএল’কে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা হৃদরোগের সৃষ্টি করে। এইচডিএল ‘ভালো কোলেস্টেরল’ কারণ তা দেহ থেকে কোলেস্টেরল সরাতে সহায়তা করে। সার্বিক কোলেস্টেরল সকল কোলেস্টেরলের সমন্বয়ে গঠিত। আর হল ট্রাইগ্লিসারাইড হল, দেহে পাওয়া যায় এমন এক ধরনের চর্বি।

দেহে ওটমিল ভিন্ন ভিন্ন কোলেস্টেরলের বিভিন্নভাবে প্রভাব রাখে।

ওটস অন্ত্রে কোলেস্টেরল আবদ্ধ করে

উচ্চ কোলেস্টেরলের সূচনা ঘটে অন্ত্রে। শষ্য-জাতীয় খাবার যেমন- ওটস খাওয়ার পর হজমের সময় অন্ত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণে কোলেস্টেরল আটকা পড়ে।

এই প্রক্রিয়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। কারণ তা শোষণের পরিবর্তে কোলেস্টেরল নির্গত করে দেয়। ওটসে আছে দ্রবণীয় আঁশ যা হজমের সময় কোলেস্টেরল নির্গত করে দিতে সহায়তা করে।

এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে

দ্রবণীয় আঁশ ‘বাইন্ডার’ বা বন্ধনি হিসেবে কাজ করে যা খারাপ কোলেস্টেরলের শোষণ ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

উচ্চ দ্রবণীয় আঁশ-জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে ওটস, ওটমিল এবং ওটস সমৃদ্ধ খাবার যা দেহে কতটা কোলেস্টেরল শোষিত হবে তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

সার্বিক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়

দেহের ভালো ও খারাপ দুই ধরনের কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর নির্ভর করে সার্বিক কোলেস্টেরলের মাত্রা।

এলডিএল কোলেস্টেরল রক্তের সার্বিক কোলেসস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় এবং এর মাত্রা কমা মানে এলডিএলের মান কমাতেও ভূমিকা রাখে।

এইচডিএল কোলেস্টেরলের উপর প্রভাব রাখে না

উচ্চ দ্রবণীয় আঁশ সমৃদ্ধ খাবার এলডিএল কোলেস্টেরলের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখলেও তা এইচডিএল’য়ের ওপর কোনো প্রভাব রাখে না।

হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে ভালো ও খারাপ কোলেস্টেরলের অনুপাত পরিবর্তি হয়। আর তা সার্বিক কোলেস্টেরলের ওপর প্রভাব ফেলে এইচডিএল ও এলডিএলের অনুপাতের ওপর ভূমিকা রাখে।

এই অনুপাতের উচ্চ মান হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ৫:১ অনুপাতকে স্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করে।

ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে

ট্রাইগ্লিসারাইড সরাসরি কোলেস্টেরল না হলেও তা দেহের চর্বির সবচেয়ে প্রচলিত অংশ।

সাধারণত, মিষ্টি-জাতীয় খাবার, সরল কার্বহাইড্রেইট এবং স্যাচুরেইটেড ফ্যাট এর মাত্রা বাড়ায়। ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে আঁশ-জাতীয় কার্বোহাইড্রেইট নির্বাচর করা উপকারী।

ওটস, মটর, তিসি, শস্যের রুটি এবং বেরি-জাতীয় ফল উচ্চ দ্রবণীয় আঁশ সমৃদ্ধ খাবার যা ট্রাইগ্লিসারাডের মাত্রাসহ দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন

যেভাবে ওটস খেলে কমবে ওজন দ্রুত  

ভালো কোলেস্টেরলের অভাবে হার্ট অ্যাটাক  

বিনা-চেষ্টায় কোলেস্টেরল কম রাখার পন্থা