মিয়ানমারে করোনাভাইরাস বিধি ভাঙায় কানাডীয় ধর্মযাজকের জেল

করোনাভাইরাসে খ্রিস্টানরা নিরাপদ বলে বক্তব্য দেওয়া এক কানাডীয় ধর্মযাজককে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে মিয়ানমারের একটি আদালত।

মহামারীর মধ্যে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে চার্চে প্রার্থনানুষ্ঠান করার অভিযোগে আদালত ওই যাজককে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে।

রাজধানী ইয়াঙ্গুনে গত এপ্রিল মাসে বার্মিজ বংশোদ্ভূত কানাডীয় যাজক ডেভিড লাহ এবং মিয়ানমারের নাগরিক ওয়াই তানকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় আটক করা হয়েছিল।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মার্চের মাঝামাঝি  সময় থেকেই ইয়াঙ্গনে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি আছে।

ধর্মযাজক ডেভিড এবং ওয়াই তান দু’জনই এই প্রশাসনিক বিধি ভাঙায় একই সাজা পেয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইয়াঙ্গনের বিচারক মুয়াং সোয়ে।

এপ্রিলের শুরুর দিকে একটি ভিডিও ফুটেজে ধর্মপ্রচারক ডেভিডকে ইয়াঙ্গনে প্রার্থনানুষ্ঠান করতে দেখা যায়। ঘরভর্তি অনুসারীদের উদ্দেশে বক্তব্যও রাখতে শোনা যায় তাকে।

তিনি বলছিলেন, “হাতে বাইবেল থাকলে আর হৃদয়ে যিশুকে লালন করলে কোনও রোগ আসবে না। এই মহামারীতে কেউ আরোগ্য এবং শান্তি এনে দিতে পারলে তা পারেন কেবল যিশু খ্রীস্ট।”

ওই প্রার্থনানুষ্ঠানের পর যাজক ডেভিডসহ তাতে অংশ নেওয়া প্রায় ২০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন বলে জানিয়েছিলেন এক কর্মকর্তা।

এ থেকে পরে গুচ্ছ আকারে সংক্রমণ ছড়ায় বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থর তুন কায়াও। ৬৭ জনের ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে।

মিয়ানমারে এতজনের একসঙ্গে ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার অন্যতম বড় ঘটনা ছিল এটি। কারণ, দেশটিতে মাত্র ৩৫৭ জন ভাইরাস আক্রান্ত হওয়া এবং ছয় জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।