কেরালায় ভূমিধসে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় ভারি বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।  

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শুক্রবার ভোররাতের দিকে ইদুক্কি জেলার রাজামালাই এলাকায় চা শ্রমিকদের বস্তির কয়েকটি ঘর প্রবল পানির তোড়ে ভেসে যায়। ওই সময় শ্রমিকরা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন।

এলাকাটি পর্যটন শহর মুন্নার থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে।

ইদুক্কির এমপি ডিন কুরিয়াকোস বিবিসিকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করলেও ৪৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। 

এখনো অনেকে ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাদের আশঙ্কার মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে চা শ্রমিকদের ২০টির মতো বাড়ি ধ্বংস হয়ে পরিবারগুলোর সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে বলে জানিয়েছে।

ভূমিধসের এ ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ আগেই শুক্রবার ইদুক্কি জেলায় অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস জানিয়ে ‘রেড এলার্ট’ জারি করেছিল।

শনিবারও সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছিল, কিন্তু ভারি বর্ষণ, কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতি এবং আরও ভূমিধসের আশঙ্কায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

সেখানে সড়ক যোগাযোগের একমাত্র সেতুটি ধসে পড়ায় মূলভূমি থেকে ঘটনাস্থল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে সেতুটি মেরামত করে যোগাযোগ ফের চালু করা হয়। এতে স্থানীয় পুলিশসহ আরও উদ্ধারকর্মী ও দমকলকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে পেরেছেন।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজয়ন জানিয়েছেন, ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এনডিআরএফ) মৃতদেহ উদ্ধারে সংগ্রাম করতে থাকা উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করছে। 

শনিবার বিবিসিকে তিনি বলেন, “মৃতের সংখ্যা এখন ২২ জনে দাঁড়িয়েছে, আরও ৪৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।”

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় কেরালার কালিকট (কোঝিকোড়) বিমানবন্দরে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে অবতরণ করতে গিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি উড়োজাহাজ রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে দুই টুকরো হয়ে অন্তত ১৮ আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দেড়শতাধিক যাত্রী।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে ভারতের দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে আগামী কয়েকদিন আরো ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।