ফের টিকা রপ্তানি শুরুর কথা ‘ভাবছে ভারত’

ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের বড় অংশকে টিকা দেওয়ার কাজ আংশিক শেষ হওয়ায় এবং সরবরাহ বাড়ায় ফের টিকা রপ্তানির কার্যক্রম শুরু করা যায় কিনা, নরেন্দ্র মোদীর সরকার তা বিবেচনা করছে বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওয়াশিংটন সফরের আগেই ভারত টিকা রপ্তানি পুনরায় শুরুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় হিমশিম খাওয়া ভারত এ বছরের এপ্রিলে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ বিপাকে পড়ে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদক দেশ ভারতের ওই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে টিকা সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

ভারত সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে দেশটির ৯৪ কোটি ৪০ লাখ প্রাপ্তবয়স্কের সবাইকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে; দেশটির প্রাপ্তবয়স্কদের ৬১ শতাংশ এরই মধ্যে টিকার অন্তত একটি ডোজও পেয়ে গেছেন।

চীনবিরোধী কৌশলগত জোট কোয়াডের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে যোগ দিতে এ মাসের শেষে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমন্ত্রণে হতে যাওয়া এই বৈঠকে মোদী ছাড়াও জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সরকারপ্রধানরা অংশ নেবেন।

মোদীর সফরের আগেই ভারত টিকা রপ্তানির বিষয়টির একটি ফয়সালা করতে চায় জানিয়ে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “রপ্তানির সিদ্ধান্ত অনেকটাই চূড়ান্ত। ভারত টিকা ও কোভিড অপারেশনাল মডেল দিয়ে আফ্রিকাকে সহযোগিতা করতে চায়।”

রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য তারা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া মেলেনি।

ভারতের টিকা রপ্তানি সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের সঙ্গে দেখা করেন।

পরদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সে টিকা সরবরাহ পুনরায় শুরুর ব্যাপারে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা ধারাবাহিক যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

“চলতি বছরই তারা ফের টিকা সরবরাহ করতে পারবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি এই সরবরাহ বছরের শেষ নাগাদ না হয়ে আরও আগে বা আসছে সপ্তাহগুলোতেই হবে,” এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্রুস অ্যালওয়ার্ড।

রপ্তানি বন্ধের আগে ভারত প্রায় ১০০টি দেশে টিকার ৬ কোটি ৬০ লাখ ডোজ কোভিড টিকা অনুদান হিসেবে দিয়েছিল, অথবা বিক্রি করেছিল।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোয় ভারতেও গত মাস থেকে টিকাদান কার্যক্রম গতি পেয়েছে।

জনসংখ্যার বড় অংশ টিকা নিলে টিকাদান কার্যক্রম ধীরে ধীরে শ্লথ হয়ে আসে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিজ্ঞতার আলোকে ভারত টিকা রপ্তানি ফের শুরুর বিষয়টি দেখছে বলে জুনে দেশটির সরকারের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন।

আফ্রিকান ইউনিয়ন মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, টিকা কিনতে উৎপাদক দেশগুলো তাদেরকে ন্যায্য সুযোগ দিচ্ছে না। ভারতের মত বড় উৎপাদক দেশগুলোর টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ‍তুলে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের মানুষকে করোনাভাইরাস টিকার ৫৭০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে, এর মাত্র ২ শতাংশ পেয়েছে আফ্রিকা।