কোভিডে আক্রান্ত লতা মুঙ্গেশকর আইসিইউতে

উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মুঙ্গেশকরের দেহে প্রাণঘাতী কোভিড শনাক্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

৯২ বছর বয়সী এই শিল্পীকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে এবং তার উপসর্গ মৃদু বলে মঙ্গলবার লতার ভাগ্নি রচনা শাহ বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন।

“তিনি ভালো আছেন। বয়স বিবেচনায় সাবধানতার অংশ হিসেবে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। আমাদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ করছি, প্রিয় দিদিকে (ভক্তদের কাছে এই নামেই পরিচিত লতা) আপনাদের প্রার্থনায় রাখুন,” বলেছেন রচনা।

এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে লতা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।

১৯২৯ সালে জন্ম নেওয়া লতার পিতা দীনানাথ মুঙ্গেশকর মারাঠি থিয়েটারের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তি, ক্লাসিক্যাল গাইতেন। গান শেখাতেনও। তার হাতেই তালিম শুরু লতার।

এ ‘নাইটিঙ্গেল অফ ইন্ডিয়া'র নাম ছিল হেমা। মৃত বড় বোনের নাম লতিকা হওয়ার কারণে পরে হেমা হয়ে যায় লতা।

মাত্র বারো-তেরো বছর বয়সেই তার বাবা অকালে প্রয়াত হন। তাতে গান শেখায় ছেদ পড়েনি। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও গানই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান।

‘কিটি হাসাল’ নামে এক মারাঠি সিনেমায় তার প্লেব্যাক ক্যারিয়ার শুরু।

তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়েছেন। দ্বিতীয় সংগীত শিল্পী হিসাবে পেয়েছেন ভারতরত্ন। ২০১৯ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার তাকে ‘ডট্যার অব দ্য নেশন’ খেতাবেও ভূষিত করে।

৩৬ ভাষাতে গান গাওয়া লতার গাওয়া অসংখ্য বাংলা গান কয়েক প্রজন্মকে মুগ্ধ করে রেখেছে।

বিখ্যাত ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার একবার বলেছিলেন, “লতা মুঙ্গেশকর আমাকে অনুপ্রাণিত করে সবসময়, একটা মানুষ সাফল্যের চূড়ায় বসেও কীভাবে এত বিনয়ী হয় এটা আমি শিখেছি লতাজীর থেকে। কাজের প্রতি যে আত্মনিবেদন এটা বিশ্বের যে কেউ শিখতে পারে তার থেকে।”

চিরহরিৎ বৃক্ষ ‘লতা’র জন্মদিন