পাকিস্তানের লাহোরে বোমা হামলায় নিহত ৩, আহত অর্ধশতাধিক

লাহোরের ব্যস্ততম আনারকলি মার্কেটে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের লাহোরে একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে তিন জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৩৩ জন।

বৃহস্পতিবার নগরীর ব্যস্ততম আনারকলি মার্কেটে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন অনলাইন জানিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়, সঙ্কটজনক অবস্থায় আরও দুইজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের মৃত্যু হয়।

প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও পরে পুলিশ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এটি বোমা বিস্ফোরণ ছিল বলে নিশ্চিত করে। 

বিস্ফোরণটি এতই শক্তিশালী ছিল যে রাস্তায় একটি গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। রাস্তায় থাকা যানবাহন ও পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি ভবনের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের পর ওই এলাকা থেকে হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

বিস্ফোরণের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বেলুচ ন্যাশনালিস্ট আর্মি’ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে। চলতি মাসের শুরুতে বেলুচিস্তানের দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, ‘বেলুচিস্তান রিপাবলিকান আর্মি’ ও ‘ইউনাইটেড বেলুচ আর্মি’ একত্রিত হয়ে ‘বেলুচ ন্যাশনালিস্ট আর্মি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে ডন জানিয়েছে।

কিন্তু বিস্ফোরণের জন্য ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ দায় স্বীকার করেছে বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ।

তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে তা শেষ খবর পর্যন্ত পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি নির্ধারণ করতে পারেনি।

হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে অজ্ঞাত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে পাঞ্জাব কাউন্টার-টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি)।

লাহোরের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (অপারেশনস) মুহাম্মদ আবিদ খান বিস্ফোরক পদার্থটি একটি গাড়ির নিচে অথবা একটি মোটরবাইকে রাখা ছিল বলে ধারণা করছেন।

গত বছরের ২৩ জুন লাহোরের জোহার টাউনে একই কায়দায় চালানো একটি গাড়ি বোমা হামলায় চার জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিল অন্তত ২১ জন।