কোভিড: ভারতে দৈনিক শনাক্ত খানিকটা কমেছে

দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের দাপটের মধ্যে ভারতে একদিনের ব্যবধানে দৈনিক সংক্রমণ কিছুটা কমেছে, শনিবার সংক্রমণের হার নেমে এসেছে ১৭ দশমিক ২২ শতাংশে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭০৪ জনের শরীরে কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়েছে, আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪৮৮ জন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার দেশটিতে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৪, শনাক্তের হার ছিল ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে শনিবার শনাক্ত কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

গত ডিসেম্বরের পর থেকে ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিডের সংক্রমণ, বেড়েছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও। সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বর্তমানে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পরই ভারতের অবস্থান।

ভারতে কোভিডে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৩ হাজার ৭৩১, মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮৪ জনে।

ভারতের ২৯টি রাজ্যে কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে যাদের নমুনা থেকে ভাইরাসের জেনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৫০ জনের ওমিক্রনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

ওমিক্রনের প্রভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ যে ঢেউ চলছে, তা কতটুকু গুরুতর হবে সেটি হাসপাতাল ও মৃত্যুর তথ্যে বেরিয়ে আসার আগে সংক্রমণ কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য জানিয়েছে, ওমিক্রনের ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা ডেল্টা ধরনের তুলনায় অনেক কম।

দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৭৬ জন, মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ কোটি ৬৩ লাখ ১ হাজার ৪৮২ জন। বর্তমানে সক্রিয় কোভিড রোগীর সংখ্যা ২১ লাখ ১৩ হাজার ৩৬৫।

কোভিড আক্রান্তের দিক থেকে সবথেকে বেশি নাজুক অবস্থা মহারাষ্ট্রের। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৪৮ হাজার ২৭০ জনের শরীরে কোভিড ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের।

এরপরই রয়েছে কেরালা, সেখানে হত ২৪ ঘণ্টায় ৪১ হাজার ৬৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ১০৬ জনের।

এদিকে রাজধানী দিল্লিতে গত একদিনে ১০ হাজার ৭৫৬ জন নতুন করে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৩৮ জন। সেখানে দৈনিক সক্রিয় কোভিড আক্রান্তের হার ১৮ দশমিক ০৪ শতাংশ।

সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতে এ পর্যন্ত ১৬১ কোটির বেশি কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। দেশটির ৯৪ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্করা কোভিড-১৯ এর প্রথম ডোজ নিয়েছেন এবং ৭২ শতাংশ ইতোমধ্যে টিকার দুটি ডোজ পেয়েছেন।

স্বাস্থ্যকর্মী ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে বুস্টার ডোজ দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে। তবে অনেকেই এখনও টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

চেন্নাইয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজির বিশেষজ্ঞ তরুণ ভাটনাগর বলেছেন, সাম্প্রতিক সংক্রমণের প্রভাব দীর্ঘায়িত হতে পারে।

কয়েকটি রাজ্যের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেছেন, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে এখন যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের ৯০ শতাংশের বেশি টিকা নেননি, অথবা টিকার পূর্ণ ডোজ পাননি।