পদ্ম খেতাব প্রত্যাখ্যান সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
ভারত সরকারের দেওয়া পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ খেতাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ভারতের প্রবাদপ্রতিম গায়িকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা মঙ্গলবার রাতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রীর বরাতে জানায়, তিনি ভারত সরকারের দেওয়া এই সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পরে এক বিবৃতিতে বুদ্ধদেব বলেন, “পদ্মভূষণ পুরস্কার নিয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে এ নিয়ে কেউ কিছু বলেনি। যদি আমাকে পদ্মভূষণ পুরস্কার দিয়ে থাকে, তাহলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করছি।”

পশ্চিমবঙ্গের শেষ বামপন্থি মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের দেওয়া পদ্মভূষণ গ্রহণ করবেন কি না- তা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছিল। বিবৃতি দিয়ে তিনি নিজেই সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন।

এদিকে প্রবাদপ্রতীম শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ও আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেছেন, পদ্মশ্রী গ্রহণ না করার কথা তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়ে দিয়েছেন।

প্রতি বছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে পদ্ম সম্মাননার ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী- এই চার সম্মাননায় ভূষিত করা হয় বিভিন্ন অঙ্গনের কৃতি ব্যক্তিদের। এবারও ১২৮ জনের নাম ছিল এ তালিকায়।

ডয়চে ভেলে বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের খেতাব প্রত্যাখ্যান করার কারণ আলাদা। সন্ধ্যা নাম ঘোষণার আগেই তা প্রত্যাখ্যান করেন। আর বুদ্ধদেব প্রত্যাখ্যান করেন নাম ঘোষণার পর।

আধুনিক বাংলা গানের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী সন্ধ্যা আনন্দবাজারকে বলেছেন, ‘‘এভাবে কেউ পদ্মশ্রী দেয়? এরা জানে না আমি কে! নব্বই বছরে আমায় শেষে পদ্মশ্রী নিতে হবে? আর ফোন করে বললেই চলে যাব আমি? শিল্পীদের কোনও সম্মান নেই?''

পদ্ম-সম্মানের মধ্যে পদ্মশ্রীর অবস্থান চতুর্থ। তার উপরে পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ এবং একেবারে উপরে আছে ভারতরত্ন।

ডয়চে ভেলে বাংলা লিখেছে, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে পদ্মভূষণ দিতে চাওয়া হয়েছিল সামাজিক ক্ষেত্রে তার কাজের জন্য। কিন্তু তিনি এই সম্মান প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে কোনো কারণ দেখাননি। দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, মতাদর্শগতভাবে বুদ্ধদেব বিজেপির তীব্র বিরোধী। তিনি কিছুদিন আগেও বিজেপির কড়া সমালোচনা করেছেন।

“তাছাড়া সিপিএমও এই ধরনের পুরস্কার নেয়ার বিরোধী। এর আগে মনমোহন সিং সরকার জ্যোতি বসুকে ভারতরত্ন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি। দলও চায়নি।”

এর প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “যা হয়েছে, তাতে রাজনীতি স্পষ্ট। গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে পদ্মশ্রী দিতে চাওয়া বাংলার অপমান, জাতীয় লজ্জা। বাংলার রশিদ খান পদ্মভূষণ পেলেও তাকে উত্তরপ্রদেশের মানুষ বলা হয়েছে। বাংলার অনেক গুণী মানুষ আছেন, তাদের দিল্লির মনে পড়ে না। তবে বাংলা কারো কাছে করুণা ভিক্ষা চায় না।”