একজনও পালানোর সময় পাবেন না: ছাত্রলীগ সভাপতি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতাকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেছেন, তাদের নেতাকর্মীরা মাঠে নামলে একজনও পালানোর সময় পাবেন না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা এবং হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক রাজধানীর ধোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছেন। ভাস্কর্য নির্মাণ করা হলে তা বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল শেষে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করে ছাত্রলীগ।

হুমকিদাতাদের পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি জয় বলেন, “আপনারা বুড়িগঙ্গার ধারে-কাছে আইসেন, সবকটারে বুড়িগঙ্গায় ভাসায় দেওয়া হবে। জাতির পিতাকে নিয়ে ধৃষ্টতা দেখান, আমরা আপনাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেব।”

এর আগে রাজধানীর পলাশী মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমবেত হন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশে আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, “আমি নষ্ট-ভ্রষ্ট মামুনুল হককে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, মাইকের সামনে বসে বড় বড় কথা না বলে সাহস থাকলে ছাত্রলীগের সাথে মোকাবেলা করেন। অনেক দেখেছি, ৫ই মে ওই শাপলা চত্বরে খুব বড় বড় কথা বলেছেন। পরে আমরা কী দেখলাম, ওই মামুনুল হক লেজ গুঁটিয়ে পালিয়েছে। সুতরাং চিল্লায়া মার্কেট পাওন যাবে না। …পেটটা ভালোই বাড়ছে খাইতে খাইতে।

“বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পাঁচ মিনিটে সারা বাংলাদেশ অচল করে দিতে পারে, সেই ক্ষমতা আমাদের আছে। আমরা যদি মাঠে নামি আপনারা একজনও পালানোর সময় পাবেন না।”

মামুনুল হক ‘জঙ্গিবাদীদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে’ মন্তব্য করে প্রশাসনের উদ্দেশে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, “জঙ্গিবাদীদের নিয়ে যারা এগিয়ে যায়, সাম্প্রদায়িকতাকে নিয়ে যারা এগিয়ে যায়, তাদের কিন্তু এখনই লাগাম টানতে হবে। তাদের যে লেজ হয়েছে, সেই লেজ কেটে দেওয়ার সময় এসেছে।”

মাদ্রাসা ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই মামুনুল হক আমাদের নবীকে ঠোট নাড়ানো দেখিয়ে অপরাধ তো করেছেনই, শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। কিন্তু আমরা কোনো ইসলামী সংগঠন বা ব্যক্তিকে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখিনি। তাহলে আমরা কী ভাবব, আপনারা সব জায়গায় এক রকম আর দেশের প্রশ্নে পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেন। তাইলে তো হবে না।”

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, “যারা বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে তারা দেশদ্রোহী। জামাত-শিবির রাজাকারদের যেভাবে একটি একটি করে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে, আপনারাও কিন্তু সেই পথে ধাবিত হচ্ছেন।

“এই মামুনুল হককে কিন্তু আমরা চিনি। আপনারা জানেন তার বাবা আজিজুল হক ছিলেন স্বঘোষিত রাজাকার। সেই রাজাকারের পুত্র মামুনুল ধর্মীয় সভার নামে, ধর্মীয় গ্রন্থের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, ধর্ম নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। বাংলাদেশের মানুষ এসব বিশ্বাস করবে না।”

অনেক মুসলিম দেশে ভাস্কর্য থাকার কথা উল্লেখ করে লেখক বলেন, “পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত ব্যক্তিদের ভাস্কর্য রয়েছে। তুরস্কে ভাস্কর্য আছে, সৌদি আরবে আছে, আধুনিক মুসলিম দেশ মালয়েশিয়ায় ভাস্কর্য রয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় ভাস্কর্য আছে। তারা তো এগুলোকে হারাম বলছে না।

“তাহলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কেন এত বিরোধিতা, এত অপব্যাখ্যা। এটা থেকে স্পষ্ট, আপনাদের উদ্দেশ্য কিন্তু ভাস্কর্য নয়, দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেশকে অস্থিতিশীল করা।”

ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, এটি নতুন করে মীমাংসা করার কিছু নেই। একাত্তরেই আমরা মীমাংসা করে এসেছি। চারটি মূলনীতির জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পরিচালিত হবে।

“আজকে মৌলবাদী তাঁবেদার শক্তির আস্ফালন আমরা দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশের সমাজকে রক্ষণশীলতার চাঁদরে আবদ্ধ করার জন্য ষড়যন্ত্র দেখতে পাচ্ছি। আমরা তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, বাংলা মায়ের কোলে আমরা যেমন শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে, ঠিক একইভাবে মৌলবাদের বিরুদ্ধে আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয়ে চলতে জানি।”

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মেহেদি হাসান, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয় প্রমুখ বক্তব্য দেন।