খালেদা জিয়া পেয়েছেন মডার্নার কোভিড টিকা

করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠা খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মডার্নার তৈরি কোভিড-১৯ টিকা পেয়েছেন।

বুধবার ঢাকার শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে গিয়ে টিকার প্রথম ডোজ নেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে তার বাড়িতে থাকা আরও পাঁচজনও কোভিড টিকা নিয়েছেন।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিকালে টিকা নিতে পুলিশ পাহারায় গাড়িতে চড়ে হাসপাতালটির টিকাদান কেন্দ্রে যান।

৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নামেননি। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে গাড়িতে এসে টিকা দিয়ে যান স্বাস্থ্যকর্মী।

টিকা দেওয়ার পর খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, বিএনপি নেতা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, “করোনার টিকা যেটা আজকে এভেইলেবল, সেটাই বিএনপি চেয়ারপারসন নিয়েছেন।

“এখানে মর্ডানা দেওয়া হচ্ছে, সেই টিকাই তিনি দিয়েছেন। উনার সাথে যারা কাজ করেন, উনাকে সহায়তা করেন, উনার বাসার উনি ছয়জন আজকে টিকা নিয়েছেন।”

এই মহামারীকালে সরকারি উদ্যোগে কিনে দেশবাসীকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সহায়তা ও উপহার হিসেবেও এসেছে কিছু টিকা।

বাংলাদেশে ভারতে তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা, চীনের সিনোফার্মের টিকা, যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও মডার্নার টিকা এখন পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মডার্নর টিকা এসেছে কোভ্যাক্স থেকে সহায়তা হিসেবে।

বাংলাদেশে আসা অন্যসব টিকার মতোই মডার্নার টিকারও দুটি ডোজ নিতে হয়। খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১৯ অগাস্ট।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়া মহামারী শুরুর পর গত বছরের মার্চে সরকারের নির্বাহী আদেশে কারামুক্ত হয়ে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ফেরেন।

এবছরের ১৪ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। দুই সপ্তাহ বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। ৫৩ দিন পর গত ১৯ জুন তিনি বাসায় ফেরেন।

চিকিসৎকদের তত্ত্বাবধানে বাসায় তার নানা রোগের চিকিৎসার মধ্যে টিকার জন্য নিবন্ধন করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা সবাই দেখেছেন, উনি হেঁটে হেঁটে আলিয়া মাদ্রাসার আদালতে গেছেন এবং তার পরবর্তীতে উনি ২০২০ এর ২৫ মার্চ যখন বের হলেন, তখন হুইলচেয়ারে বাসায় এসেছেন, হুইলচেয়ারে করে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন এবং আবার হাসপাতাল থেকে হুইলচেয়ারে তিনি বাসায় ফেরেন।

“এতেই বোঝা যায়, উনার শারীরিক অবস্থা কেমন। উনি তো এরকম ছিলেন না। দীর্ঘ কথা বলতে চাই না। উনার পুরনো অসুখ আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিক, হাইপারটেনশন, হার্ট ও কিডনি বলেন, এগুলোর জন্য মর্ডান চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসা প্রয়োজন। উনার দেশের বাইরে মডার্ন মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা করা প্রয়োজন। সেই অনুযায়ী উনার চিকিৎসা হবে বলে আমরা আশা করি।”

গাড়িতে বসে টিকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “ওইখানে ওঠার যে জায়গাটা, সেই স্লোপটা কিন্তু ভাঙা। আমরা হুইলচেয়ার নিয়ে গিয়েছিলাম। তখন উনারা (হাসপাতালের চিকিৎসকরা) বললেন, তাদের যে এক্সপার্ট নার্স আছে, ওরা গাড়িতে টিকা দিয়ে দেবেন। আমরা বলেছি, ঠিক আছে।”

ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন

কোভিড টিকার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের কোনো পছন্দ ছিল কি না- জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, “আজকে যদি পরিসংখ্যান দেখেন, অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে লোভনীয় টিকা। কিন্তু এই টিকা কি এখন পাওয়া যাচ্ছে? অর্থাৎ আপনি চাইলেই হবে না। এখানে দেখার বিষয়, কোনটা এভেইলেবল।

“এই প্রতিষ্ঠানে (শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতাল) এভেইলেবেল হচ্ছে মডার্নার টিকা এবং ঢাকা শহরের বেশিরভাগ সেন্টারে এই টিকাই আছে।

উনার নিজের কোনো চয়েজ নাই। উনি আইনের প্রতি ও নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং আছেন। সেই অনুযায়ী উনি নিবন্ধন করে হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।”

ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের গাড়িতে গুলশানের বাসা থেকে মহাখালীর টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে বিকাল ৪টায় টিকা নেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক আব্দুস শাকুর খান, ডা. মোহাম্মদ আল মামুন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল হক, ইশরাক হোসেন, নজরুল ইসলাম, রাজীব আহসান, মহানগর নেতা কাজী আবুল বাশার, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার হাসপাতালে পৌঁছার খবর শুনে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীরা সেখনে জড়ো হয়েছিলেন।