হাতি-ঘোড়া না মেরে মাঠে নামেন: জাফরুল্লাহ

সরকার হঠানোর আন্দোলনে ‘হাতি-ঘোড়া মারার’ কথা না বলে বিএনপি নেতাদের মাঠে নামতে বললেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বুধবার এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, “আপনাদেরে এই ম্যান ম্যান কথা শুনতে কেউ আসবে না। এটা করবেন, ওটা করবেন, হাতি ঘোড় মারবেন– এসব কথা বাদ দেন। মাঠে নামেন।”

বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বঙ্গবন্ধুর কথা থেকে ধার করেই জাফরুল্লাহ বলেন,  “এই ভোট ডাকাতদের সরাতে হলে ওই যে শেখ সাহেবের কথা লাঠিসোঁটা যা আাছে তা নিয়া নাইমা পড়। দেখেন না তারা কোথায় পালায়!”

সরকারবিরোধী আন্দোলনকে চাঙ্গা করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমাকে দেশে নিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন বিএনপিপন্থি এই পেশাজীবী নেতা।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমি কেন বলছি, সে তরুণ, তার বয়স কম। সে নতুন করে পলিটিক্স শিখবে। যেভবে আজকে বরকত উল্লাহ বুলুরা রাজনীতি করে এত বড় হয়েছে। তাদের সাথে যদি থাকে (জাইমা) তাহলে এদেশে জোয়ার বইবে, সেই জোয়ারে দেখবেন যে, এদের নৌকা কখন ডুবে যাবে তারা টেরও পাবে না।”

অবশ্য আন্দোলনের জন্য জাইমার নানি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বও ‘প্রয়োজন’ বলে মনে করেন জাফরুল্লাহ।

“যদিও আমার বিএনপির বন্ধুরা খুশি হয় না, ওই সম্পর্কে (বিএনপির নেতৃত্ব) কোনো কথা বলব না আমি কথা দিয়েছি। একটা কথা বলব, খালেদা জিয়া সাহসী মহিলা। উনি যখন পহেলাবার ক্ষমতায় আসেন, আমি বলেছিলাম- ট্রানজিট দিয়েন না। উনি আমার পরামর্শটা নিয়েছিলেন।

“সেজন্য আমি বলব, খালেদা জিয়াকে দরকার, তাকে আমাদের সামনে দরকার।”

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে তার সাময়িক মুক্তির মেয়াদ সম্প্রতি পরিবারের আবেদনে আরও ৬ মাস বাড়িয়েছে সরকার।

এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাফরুল্লাহ বলেন, “উনি কি জেলে আছেন? না মুক্ত আছেন? সরকার না উনার সাজা ছয় মাস স্থগিত করেছে? তাহলে তো উনি মুক্ত মানুষ, অন্তুত ছয় মাসের জন্য।

“উনি যদি মুক্ত হয়ে থাকেন, দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিলো হুইল চেয়ারে করে চন্দ্রিমাতে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতে নিয়ে যাবেন। উনি কি যেতে পেরেছেন?”

যারা সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলে, তাদের সবাইকে ভবিষ্যত নিয়ে জনগণের কাছে অঙ্গীকার করারও আহ্বান জানান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ।

“ভোট ডাকাত সরকারকে সরানো পর আপনারা কী কী পরিবর্তন আনবেন তা জনগণকে বলতে হবে। আপনারাদের এসব মিষ্টি কথা তারা শুনতে চায় না। বলতে হবে এই এই পরিবর্তন আনব, যাকে ইচ্ছা তাকে জনগণ ভোট দিতে পারবে …।

“আপনারা খেয়াল করে দেখন, মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, একে ফজলুল হক তারা যে যুক্তফ্রন্ট করেছিলেন, ২১ দফা হয়েছিল, তাতে সরকারের পতন হয়েছিল। আজকেও আমাদেরকে সকল রাজনৈতিক দলকে পরিচ্ছন্নভাবে কয়েকটা বিষয়ে একমত হতে হবে। আমার মতে, পাঁচ দফায় আসতে হবে।”

২০ দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির(এনডিপি) ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে এই আলোচনা সভা হয়।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভায় বলেছেন, তোমরা নির্বাচনের জন্য তৈরি হও। কখন, সেটা বলেননি। আপনারা বলেন, আমরা নির্বাচন চাই, এখন চাই, তবে তোমার সাথে নির্বাচন নয়। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়- সমস্ত রাজনৈতিক দলকে এই বিষয়ে এক হতে হবে।

“তারপরে কে কোথায় সভা করবেন করেন। সেই সভায় দাঁড়িয়ে বলেন, এই সরকার গেলে পরে যে সরকার হবে, সেটাকে জাতীয় সরকার বলেন বা নির্বাচনকালীন সরকার বলন, অথবা অন্তবর্তীকালীন সরকার বলেন- যে নামেই বলেন- আমরা একটা সরকার চাই, যারা এদেশের একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারিন্ট দিতে পারবে।

“এই দাবিতে যদি এক হই, আওয়ামী লীগ…। আমরা ঠিক মত যদি লড়াইটা করতে পারি, সেই লড়াইয়ে আমরা জিততে পারি, যদি ঠিক মত লড়াইটা করতে পারি।”

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, “আজকে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, রাজনীতিবিদরা কথা বলতে পারছে না। দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।  এই দেশকে বাঁচাতে হলে, এদেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে এখন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নাই।

“আজকে এরকম পরিস্থিতিতে আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক, সকল প্রগতিশীল, সকল গণতান্ত্রিক মানুষকে এক মঞ্চে আসা উচিত। এই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে হবে।” 

এনডিপির চেয়ারম্যান কেএম আবু তাহেরের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বক্তব্য দেন।