মন্দির-মণ্ডপে হামলা: সরকারের কঠোর পদক্ষেপ চায় ওয়ার্কার্স পার্টি

কুমিল্লার ঘটনার জেরে বুধবার রাতে গাজীপুর, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও মৌলভীবাজারে বেশ কিছু মন্দির ও পূজা মণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দিরে আক্রমণ ও পূজা মণ্ডপে ভাংচুরের ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটব্যুরোর সভা থেকে বৃহস্পতিবার এই আহ্বান জানানো হয়।

দলটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুমিল্লার নানুয়া দীঘি পাড় এলাকায় একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে ‘কোরআন অবমাননার গুজবকে কেন্দ্র করে’ কুমিল্লা-চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

“সভায় বলা হয়, ইতোপূর্বেও আমরা লক্ষ্য করেছি, বিভিন্ন অজুহাতে মন্দির আক্রমণ, প্রতিমা ভাংচুর এখন ব্যাপকভাবেই ঘটছে, এমনকি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সাম্প্রদায়িক বিভিন্ন ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।”

“সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি সৃষ্টির কৌশল হিসাবে কিছু গোষ্ঠী বার বার দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।”

বুধবার সকালে কুমিল্লায় নানুয়া দিঘীর পাড় পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে বেশ কিছু মন্দিরসহ শহরের সালাউদ্দীন রোড কালীগাছতলা ও কাপুড়িয়া পট্টির মণ্ডপেও হামলা হয়। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

এর জেরে গাজীপুর, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজারে বেশ কিছু মন্দির ও পূজা মণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুর হয়। চাঁদপুরে হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে প্রাণহানিও ঘটে। পরে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দুর্গা পূজার সময় নিরাপত্তা রক্ষায় মোট ২২টি জেলায় বিজিবি সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে। কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৩ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, সুশান্ত দাস, মাহমুদুল হাসান মানিক, নূর আহমেদ বকুল, নজরুল ইসলাম হাক্কানি,  জ্যোতি শংকর ঝন্টু, নজরুল ইসলাম নিলু, হাজী বশিরুল আলম, আলী আহমদ, এনামুল হক এমরান বক্তব্য রাখেন।