এটা সরকারের ‘চক্রান্ত’: ফখরুল

দুর্গা পূজার মধ্যে কুমিল্লাসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রদায়িক হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় সরকারকে দুষেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন পত্রিকায় এসেছে,হিন্দু ভাইদের যে দুর্গাপূজা হচ্ছে, সেই দুর্গাপূজায় কতগুলো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে কুমিল্লায় ও চাঁদপুরে। চাঁদপুরে তিনজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে এবং নির্বিচারে গুলি করেছে।”

অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করবার যে চক্রান্ত -এটা এই সরকারের চক্রান্ত। তারা এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়,ধবংস করতে চায় এবং দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আপনারা শুনেছেন যে, কোরআন শরীফ নিয়ে রেখেছে পূজামণ্ডপে। কে করেছ? যারা করেছে তারা এই সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্যই করেছে,দেশে একটা স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্যই করেছে।

“অন্যদিকে আবার পুলিশ গুলি চালায় নির্বিচারে, সেটাও একই কারণে তারা করেছে। একটা জায়গা না, বহু জায়গায় আপনার এগুলো করেছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমার দেশের সংকট কী? আমার দেশের সংকট হচ্ছে গণতন্ত্র, আমার দেশের এখন সংকট হচ্ছে কথা বলার অধিকার নাই। আমাদেরকে কোথাও দাঁড়াতে দেয় না,মানুষের অধিকারকে কেড়ে নিয়েছে।

“একটা ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী দানবের মতো শাসন চেপে বসে আছে আমাদের ওপর। সেটা নিয়ে কথা, সেটা নিয়ে কাজ করছি তখন এসব ঘটনা ঘটিয়ে তারা ডাইভার্ট করতে চায় জনগণের যে দৃষ্টি সেটাকে অন্য দিকে নিতে চায়।”

নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “নির্বাচন বাংলাদেশে হাসির কথা, লাফিং টকস। বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন ভুলে গেছে। লাস্ট নির্বাচন ২০০১ সালে হয়েছে তারপরে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ২০০৮ সালে যেটা হয়েছে সেটা একটা অবৈধ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে,সেটা আমরা কখনও মেনে নিতে পারি না...।

“সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন সাহেব আজকে বলেছেন, যে কখনোই বাংলাদেশে আপাতত যে প্রেক্ষাপট আছে, তাতে একটা নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন কমিশন কিছুই করতে পারবে না, সম্ভব না।”

নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না পারলে সুষ্ঠু ভোট হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সে কারণে আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি যে, আগে পদত্যাগ কর-রিজাইন এবং একটা নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা দাও।

“কিন্তু ওদিকে তারা (সরকার ) যাবে না। তাদের সার্চ কমিটির মাধ্যমে সেই লোকগুলোই তো নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। এটা কোনো দিনই গ্রহণযোগ্য হবে না।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “কথা স্পষ্ট- নির্বাচন নির্বাচন আর খেলা হবে না। সত্যিকার অর্থে যদি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হয় আগে সরকারকে সরে যেতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।”

জাতীয় প্রেস ক্লাব কিংবা অন্য কোথাও বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না অভিযোগ করে দলের মহাসচিব বলেন, “নব্বইয়ের আন্দোলনের নেতাদের একটা অনুষ্ঠান ছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে। সেখানে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন ভার্চুয়ালি।

“এটা তারা সহ্য করতে পারল না। তার পরের দিন থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব,সরকারের তথ্যমন্ত্রী, তারা বলতে শুরু করলেন খুব অন্যায় হয়েছে,বেআইনি হয়েছে।”

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “আরে ভাই এত ভয় কেন? তারেক সাহেব তো সেই ৮ হাজার মাইল দূর থেকে একটা বক্তব্য দিয়েছেন। আপনারা এতো ভয় পাচ্ছেন কেন?

“তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না, তার ছবি ছাপা যাবে না, তার কথা শোনানো যাবে না। আসলে তারা দুঃস্বপ্ন দেখে– এই বোধহয় এসে গেল এবং দিবা স্বপ্ন দেখে দিনের বেলা ভয় পায়, এই বুঝি আমাদের চেয়ার বোধহয় গেল, গদি বোধহয় গেল...।”

জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনাসভায় সভানেত্রী অধ্যক্ষ নূর আফরোজ বেগম জ্যোতির সভাপতিত্বে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্র দলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকারসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।