সহিংসতায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, পেছনে বিএনপি: কাদের

নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশে সহিংসতা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের জগন্নাথ হলের মন্দিরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করে একথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং এদের দোসররা হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজার সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

“এ মহলটি কারা, কারা এদের পৃষ্ঠপোষক তাদের আমরা চিনি। এদেশের সব উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির নির্ভরযোগ‌্য ঠিকানা হচ্ছে বিএনপি। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় আজকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তারা দুঃসাহস দেখাচ্ছে।”

আন্দোলনে হেরে গিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন‌্য বিএনপি ষড়যন্ত্রের চোরাগলি বেছে নেওয়ায় এমন সাম্প্রদায়িক হামলা হচ্ছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

শেখ হাসিনার সরকারের আমলে গত ১২ বছর কখনো কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি দাবি করে কাদের বলেন, “প্রতিবছরই ৩০-৩৫ হাজার পূজামণ্ডপের কোথাও কিছু ঘটেনি। অথচ এবার কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় দুঃখজনক এবং নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে।

“এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের ও আওয়ামী লীগের অবস্থান অত‌্যন্ত কঠোর।”

আক্রান্ত হলে পাল্টা জবাব দেব

প্রতিমা বিসর্জনের দিনও ষড়যন্ত্র থাকার সংশয় প্রকাশ দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “আগামী কাল দশমী, প্রতিমা বিসর্জনের দিন। ষড়যন্ত্রকারীরা যে কোনো ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। এর জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।

“ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্ধ আপনাদের দায়িত্ব অনেক। বিপদসংকুল দায়িত্ব আপনাদের উপর অর্পিত হয়েছে। এই দায়িত্ব দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করতে হবে। কোনো অবস্থায় মাথা গরম করবেন না। ঠাণ্ড মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আমরা কাউকে আক্রমণ করব না, কিন্তু আক্রান্ত হলে আমরা পাল্টা জবাব দেব।”

বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা চলার মধ্যেই বুধবার সকালে কুমিল্লায় কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়ে, এক পর্যায়ে বাঁধে সংঘর্ষ।

কুমিল্লা: মন্দিরে সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা অচেনা, বলছেন স্থানীয়রা  

এমন শাস্তি হবে ভবিষ্যতে কেউ সাহস পাবে না: প্রধানমন্ত্রী  

‘উসকানি’ দিয়ে মন্দিরে হামলা, আটক ৪৩  

এর জের ধরে চাঁদপুরেও পূজা মণ্ডপে ভাংচুর ও সংঘর্ষ হয়, সেখানে প্রাণহানিও ঘটে। মণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও কর্ণফুলী উপজেলা, কক্সবাজারের পেকুয়া, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জেও।

ইতিমধ্যে কুমিল্লা, ফেনীসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় হামলা-ভাংচুর-সংঘাতের পর দুর্গা পূজায় নিরাপত্তা দিতে ২২ জেলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবির সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে।

‘ধর্মকে ব্যবহার করে যারা সহিংসতা’ সৃষ্টি করছে তাদেরকে অবশ্যই খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।