সরকারের ‘উসকানিতে’ প্রতিক্রিয়া নয়: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সরকারের যে কোনো উসকানিতে’ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ‘বজায় রাখার’ অবস্থান নিয়েছে তার দল।

শুক্রবার প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “কুমিল্লার ঘটনা আপনার পরিকল্পিত, আপনার সরকারের পরিকল্পিত ঘটনা। সেই ধারাবাহিকতাই এখন চলছে।

“আমার দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সারাদেশের সকল সম্প্রদায়, আমাদের অতীত ঐহিত্য অনুযায়ী আমরা দৃঢ় বন্ধনের মধ্য দিয়ে, যে কোনো উসকানির মধ্যে আমরা ঐক্য বজায় রাখব, আমাদের দৃঢ় বন্ধন আমরা বজায় রাখব।

“এই সরকারের কোনো উসকানির মুখে আমরা কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাব না। আবহামান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য- সেটা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির। সেই ঐতিহ্যকে বার বার বিনষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা চলার মধ্যেই বুধবার সকালে কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়ে, এক পর্যায়ে বাঁধে সংঘর্ষ।

এর জের ধরে চাঁদপুরেও পূজা মণ্ডপে ভাংচুর ও সংঘর্ষ হয়, সেখানে প্রাণহানিও ঘটে। মণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ‘বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায়’ সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশে সহিংসতা ছড়াচ্ছে।

এর জবাব দিতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এমন কোনো কাজ নেই যে কাজ করেননি। গত পরশু দিন কুমিল্লার ঘটনাও আপনি ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এটা আপনার সরকার ও সরকারের লোকজনই ঘটিয়েছে। এজন্য যে, জনগণ ওটা নিয়ে পড়ে থাকবে।… দৃষ্টি যেন অন্য দিকে ফিরে যায়, এজন্য ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রাজনৈতিক কর্মসূচি’ বন্ধে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তের জন্যও সরকারের সমালোচনা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

তিনি বলেন, “বিএনপিকে প্রেসক্লাবে সভা করতে না দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে- গুম, খুন অব্যাহত থাকবে। তোমরা কেউ কথা বলতে পারবে না, কেউ মানববন্ধন করতে পারবে না, ক্লাবের মিলনায়ত ভাড়া নিয়ে আলোচনা করতে পারবে না। যে ন্যূনতম পরিসরটুকু ছিল, সেই পরিসরটুকু বন্ধ করতে দিয়েছে। এটা ন্যক্কারজনক ঘটনা।”

২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই মানববন্ধন হয়।

সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুতফুর রহমান, এনপিপির মহাসচিব মোস্তারিফজুর রহমান মোস্তফা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বক্তব্য দেন।