নাসিরনগরের মনোনয়নে ‘তথ্য গোপনকারীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে: নানক

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়নের জন্য জেলা ও উপজেলার যে নেতারা ‘বিতর্কিত প্রার্থীদের তথ্য গোপন করে’  আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডে তালিকা পাঠিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

সমলোচনার মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে চেয়ারম্যান পদের দুই প্রার্থীকে আওয়ামী লীগ পরিবর্তন করার পর শুক্রবার ধানমণ্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা কথা বলেন।

নানক বলেন, “এটি অবশ্যই শঙ্কার বিষয়। তবে আমার স্পষ্ট কথা হল, আমাদের মনোনয়নের ব্যাপারে কতগুলি স্তর পার করে চূড়ান্তভাবে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের কাছে আসে। কাজেই এদেরকে যারা চিহ্নিত করে নাই, অথবা এদের পরিচয় যারা গোপন রেখেছে, যে স্তরে বা সংগঠনের যে পর্যায়ে এটি হাইড করেছে বা গোপন করেছে, এদের পরিচয়গুলি, সংগঠনের সেই স্তরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসন্ন ভোটে অংশ নিতে গত মঙ্গলবার নাসিরনগর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। তাতে ২০১৬ সালে হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক আবুল হাসেম এবং হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখির নাম থাকায় তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। 

এই প্রেক্ষাপটে তাদের পরিবর্তন করে সদর ইউনিয়নে সাবেক ইউপি সদস্য পুতুল রানী বিশ্বাস এবং হরিপুর ইউনিয়নে মো. ওয়াসিম আহমেদকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, "গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন সংবাদ এটাই প্রমাণ করে, এরা ঢুকে পড়েছে। শুধু ঢুকেই পড়ে নাই, এরা বিভিন্ন নেতাদের কাঁধে সহায় হয়েছে। কাজেই, যে নেতার কাঁধে সহায় হয়েছে সে নেতাকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া উচিৎ এ দল থেকে।

“অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ, যাতে আর কখনো কেউ এই অপকর্ম না করে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।"

দুর্গপূজার মধ্যে কুমিল্লাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় হিন্দুদের মন্দির ও মণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে নানক বলেন, "বেশ কিছুদিন যাবত বিএনপি-জামায়াত তর্জন-গর্জন দিচ্ছিল, ঢাকা দখলের কথা বলেছিল, আন্দোলন-হুমকির কথা বলেছিল। অর্থাৎ দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য তাদের যে অভিপ্রায় ছিল, সেই অভিপ্রায় থেকে তারা বাঙালির ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে ব্যবহার করেছে।”

কুমিল্লার ঘটনা তুলে ধরে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “একটি পবিত্র কোরআন শরিফ একটি মূর্তির নিচে রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কোরআন শরিফ রেখে কুমিল্লা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকায় তারা হিন্দু সমাজের ওপর হামলা করল, মূর্তি ভাংচুর করল।

“এটি একটি সুগভীর, ধর্মীয় উগ্রবাদী, মৌলবাদী ষড়যন্ত্র। দেশকে অচল করা…। দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষেরা এর নিন্দা জানায়, ঘৃণা জানায়, প্রতিবাদ করে। এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে।”