ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে পূজামণ্ডপে হামলা: কাদের

কুমিল্লার নানুয়া দিঘীর পাড় পূজামণ্ডপে গত ১৩ অক্টোবর প্রথম হামলা হয়েছিল। ফাইল ছবি
ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করতে দেশে পূজামণ্ডপসহ হিন্দুদের উপর হামলা হয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এজন্য বিএনপিকে দায়ী করছেন তিনি।

দুর্গাপূজার মধ্যে সম্প্রতি কয়েকটি জেলায় মণ্ডপ ও হিন্দুদের উপর হামলা নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

কাদের বলেন, “বিএনপি সংখ্যালঘুদের শত্রু মনে করে, তারা ভেবেছে পূজামণ্ডপে হামলা করলে সরকারের উপর হিন্দু সম্প্রদায়ের অনাস্থা বাড়বে, আর ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিরাজমান বন্ধুত্ব নষ্ট হবে।”

হামলার পর বাংলাদেশ কঠোর, পূজাও চলছে: ভারত  

গত ১৩ অক্টোবর থেকে কয়েকদিনে কুমিল্লাসহ কয়েকটি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেই দায়ী করে আসছে বিএনপি নেতারা।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিএনপির চরিত্র হচ্ছে - মুখে শেখ ফরিদ, বগলে ইট। তাদের কথায় পুষ্পবৃষ্টি হলেও অন্তর কদর্যে ভরা। বিএনপি নেতারা মিথ্যাচারকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন। মসজিদগুলো মন্দির হয়ে যাবে, মসজিদে উলুধ্বনি বাজবে, সাম্প্রদায়িক হামলায় না কি সরকার জড়িত- আসলে ভিডিও ফুটেজে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে দেখে তারা একচোখা দৈত্যের আচরণ শুরু করেছে।

“এসব অপকর্ম ও নির্জলা মিথ্যার পেটেন্ট একমাত্র বিএনপির। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের উপর বিএনপির নির্মমতা একাত্তরকেও হার মানিয়েছিল। এখনও তারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।”

কাদের বলেন, “যারা নিজেরা এদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, মেনে নিতে পারে না উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি, তারাই জাতিকে বিভাজন করে দুর্বল এবং দেশের ইমেজ নষ্ট করতে চায়।

“আর এ বিভাজন রেখা তৈরি করতে চায় বিএনপি ও তার দোসররা। ধর্মকে যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করে তারাই পরিকল্পিতভাবে বিভাজন তৈরি করতে চায়।”

ঈদে মিলাদুন্নবির দিনে মহানবী (সা.) এর বাণী মনে করিয়ে দিয়ে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে দেশের মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানান কাদের।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে দলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছাও জানান তিনি।