প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে নিয়ে ফখরুলের সঙ্গে তর্কে যুবদল নেতা

রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সোমবার যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহিন (মাঝে মাস্ক পরা) তর্কে জড়ান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান এক সময় ছাত্রদল করতেন বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করার পর তা নিয়ে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তর্কে জড়ালেন যুবদলের এক নেতা।

ঢাকার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সোমবার নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’র আলোচনায় ফখরুল তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের নিন্দা জানান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “শুনেছি সে না কি একসময় ছাত্রদল করত। দুঃখের কথা, দুর্ভাগ্যের কথা। আগে সে ছাত্রদল করতো। সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রচার সম্পাদক ছিল। পরবর্তীকালে সে ছাত্রলীগে জয়েন করেছে। ধিক্কার দিই আমি তাকে। শেইম।”

এ সময়ে মিলনায়তনের দ্বিতীয় তলায় থাকা যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহিন দাঁড়িয়ে ফখরুলের বক্তব্যের দ্বিমত জানিয়ে বলেন, “মুরাদ ছাত্রদল করে নাই।”

যুবদলের এই তর্কে জড়িয়ে পড়লে মির্জা ফখরুল ধমকের সুরে বলেন, “ইউ ডোন্ট নো। তুমি বাজে কথা বলবে না। তুমি জান না।”

এরপরও শাহিন তর্ক চালিয়ে গেলে মিলনায়তনে থাকা বিএনপিকর্মীরাও ক্ষুব্ধ হয়।

ফখরুল তখন যুবদল নেতা শাহিনকে নিচে নেমে মঞ্চে আসার জন্য বলেন। মঞ্চে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকার মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম চুপ থাকতে বলেন শাহিনকে।

পরিস্থিতি শান্ত হলে ফখরুল বলেন, “এক সময়ে সে (মুরাদ) ছাত্রদল করেছেন, পরবর্তীতে সে ছাত্রলীগের নেতা হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছে। দুর্ভাগ্য আমাদের, এই রকম একটা ছেলে ওই সময়ে ছাত্রদলে ছিল।”

ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার যে কথা উঠেছে, সে বিষয়ে মুরাদ হাসানের বক্তব্য জানতে চাইলে সোমবার বিকালে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ঢাকার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সোমবার নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’র আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি

প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় এক আলোচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়েকে নিয়ে বর্ণবিদ্বেষী এবং অবমাননাকর বক্তব্য করেন, যার সমালোচনা হচ্ছে।

সেই প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, “সোশাল মিডিয়াকে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জঘন্য, নিকৃষ্ট কথাবার্তা বলছেন। একজন ভুঁইফোড়, ডাক্তার ছিল শুনেছি, সম্ভবত জামালপুরের সরিষাবাড়ীর।

“আরও মারাত্মক হচ্ছে ওই বক্তব্যের (তথ্য প্রতিমন্ত্রীর) শেষের বক্তব্যটুকু। বলেছে, ‘আমি যা কিছু করছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই করছি’।”

এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করে ফখরুল বলেন, “আমি এই সভা থেকে স্পষ্টভাবে প্রশ্ন করতে চাই প্রধানমন্ত্রীকে-এই কথা সত্য কি মিথ্যা, আপনাকে জানাতে হবে। কারণ আপনি প্রধানমন্ত্রী। আপনার সরকারের অবস্থান কী, আমরা জানতে চাই। এর উত্তর দিতে হবে। কারণ আপনাকে জড়িয়ে এই কথা বলা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা জানতে চাই যে আপনি কি এমন একটি সরকার নিয়ে এখানে এসেছেন, যে সরকার  আমাদের দেশের সমস্ত কৃষ্টি, আমাদের দেশের যে সৌজন্যবোধ, আমাদের যে ঐহিত্যগুলো আছে তাকে বিনষ্ট করে দেবে? রাজনীতিকে তো ধ্বংস করেছেনই, এখন আমাদের মা-বোনের প্রতি আমাদের সম্মান-শ্রদ্ধা সেটাও তি আপনি ধ্বংস করে দেবেন?”

নারী সংগঠনগুলোকে এনিয়ে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, “এই যে বর্ণবাদী কথা, এই যে নারী বিদ্বেষী কথা … আমার বোনদের অনুরোধ করব, আপনাদের প্রতিবাদ জানানো উচিত। আজকে আমি ধন্যবাদ জানাই কয়েকজন নারীনেত্রীকে তারা আজকে প্রতিবাদ করেছেন।”

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “ফুটপাত থেকে ধরে এনে মন্ত্রী বানিয়েছে! বাংলাদেশের লোক ফুটপাতের মন্ত্রী দেখতে চায় না। বাংলাদেশের লোক তাদের অশ্রাব্য, অকথ্য কথাবার্তা শুনতে চায় না। এই সমস্ত নোংরা লোকজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান নিয়ে বাংলাদেশের সচিবালয়কে অপবিত্র করা হয়েছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।”