খালেদার বিদেশযাত্রায় সরকারই বাধা: ফখরুল

মন্ত্রীরা আইনের কথা বললেও তা প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,সরকার চাইছে না বলেই অসুস্থ খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রার পথ খুলছে না।

ঢাকার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সোমবার নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’র আলোচনায় একথা বলেন তিনি।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত থাকার মধ্যে অসুস্থ হয়ে এখন হাসপাতালে রয়েছেন।

তার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে চাইছে বিএনপি। তবে তাতে সাড়া দিয়ে সরকার বলছে, এখন আইনিভাবে সেই সুযোগ নেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ডাক্তাররা যখন বলেছেন যে তার চিকিৎসার আমাদের হাতে শেষ, এখন একমাত্র আছে বিদেশের উন্নত সেন্টার।

“সরকার তাকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না। তারা বিভিন্ন রকম কথা বলছেন। আইনের কথা বলছেন। আইন বাধা নয়, বাধা হচ্ছে সরকার। আইনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে ৪০১ ধারায়, এই ধারার অধীনে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো যেতে পারে।”

ফখরুল বলেন, “এই সরকারের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নাই। যেহেতু তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়েছে, সেই কারণে বিভিন্নভাবে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্য বিভ্রান্ত করছে।

“আজকে যে একটা স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করল, এই নির্বাচনের দেখুন কী অবস্থা। আমি অভিনন্দন জানাই সেই তৃতীয় লিঙ্গের ভাইকে বা বোনকে, যার হাতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা পরাজিত হয়েছে। তাকে অভিনন্দন জানাই, তাকে শুভেচ্ছা জানাই।”

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হঠাতে নব্বইয়ের মতো সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

“নব্বইয়ের আন্দোলন, সেই আন্দোলন সফল হয়েছিল তখনই, যখন সমস্ত শক্তিগুলো এক হয়েছিল, তখনই স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটেছিল। আজকেও ঠিক একইভাবে সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাতে হবে।”

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “সরকারকে বলতে চাই, এত মারপ্যাঁচ না করে আপনারা সোজাসুজি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিতসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেবেন কি দেবেন না?

“আমরা সাফ সাফ কথা জানতে চাই, এখনই জানতে চাই। আপনাদের এত কথা শুনতে চাই না। নইলে দেশের জনগণ এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে সুচিকিৎসার জন্য নেবে।”

ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় আলোচনা সভায়  নব্বইয়ের ছাত্রনেতার মধ্যে আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন মনি, খন্দকার লুতফুর রহমান, আসাদুর রহমান খান, কামরুজ্জামান রতন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এবিএম মোশাররফ হোসেন, যু্বদল নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দল নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল, শ্রমিক দল নেতা মুস্তাফিজুল করীম মজমুদার, ছাত্রদল নেতা ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল বক্তব্য রাখেন।