পিয়নও এখন এমপিকে দাম দেয় না: নাজিম

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ।
আমলাতন্ত্র থেকে ‘রেহাই’ পেতে সংসদকে শক্ত হতে বললেন ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ।

সোমবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারি দলের এই সদস্য বলেন, এখন পিয়নও ‘দাম দেয় না’ সংসদ সদস্যদের।  

নিজের এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ‘স্থবিরতার’ চিত্র তুলে ধরেন ময়মনিসংহ-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, “আমি আমার ভৌগোলিক এলাকার সমস্যা তুলে ধরতে চাই। গৌরীপুরে ১০টা হাইস্কুল চারতলা ভবন হয়েছে। অর্ধেক হওয়ার পরে কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। রাস্তাগুলোর কাজ স্থবির হয়ে গেছে। একজন ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে, পিডি সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে বলে ফান্ড নাই, টাকা নাই। টাকা নিয়ে আসেন।

“সত্য কথা বলতে কি, যেহেতু আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী। আর সময় আছে দুই বছর। এই দুই বছরের মধ্যে যদি কাজগুলো সম্পন্ন করতে না পারি, তাহলে জনগণের কাছে কথা বলতে পারব না। ৫০ কোটি টাকার কাজ, অর্ধেক হয়ে বসে রয়েছে।”

নিজের এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে আছে বলে অভিযোগ করেন সাংসদ নাজিম।

তার কথায়, “এলাকার উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ ছাড় পায়নি। কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করলেও তারা বলেন, টাকা আসেনি।

“এই যদি অবস্থা হয়। আমরা যারা প্রতিনিধি হয়ে এসেছি, আগামী নির্বাচনের আগে মানুষের কাছে জবাব দিতে পারব না।”

‘নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত’ গৌরীপুরের এমপি  

গত বছরের মার্চ মাসে নিজের জীবন নিয়ে ‘শঙ্কা’ প্রকাশ করে সংবাদ করে আলোচনায় এসেছিলেন গৌরীপুরের এই সাংসদ। স্থানীয় মেয়র ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে নিজের গাড়িবহরে হামলা চালানোর অভিযোগ আনেন তিনি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় মডেল মসজিদ নির্মাণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা তুলে ধরে সাংসদ নাজিম বলেন, “আমরা যদি সংসদে সত্য কথা বলি, তাহলে বিরোধী দলের ফ্লোরের মত হয়ে যায়। 

“আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আমরা ভুগছি। আমলারা যেভাবে আমাদের ওপর… একজন এমপির মূল্যায়ন নাই। এমপি হিসেবে একজন সচিবের কাছে গেলে তারা যেভাবে শ্রদ্ধা করবে, শ্রদ্ধাবোধ নাই। পিয়ন পর্যন্ত আমাদের দাম দেয় না। স্যারডা না বইলা পারে না। আমলাতন্ত্রের হাতে আমরা জিম্মি হয়ে গিয়েছি। আমলাতন্ত্রে হাত থেকে বাঁচার জন্য আমাদের শক্ত হতে হবে। অর্থাৎ নিয়মের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। নিয়মের মধ্যে আগাতে হবে।”

“দয়া করে আমলাতন্ত্র থেকে রেহাই পাওয়া থেকে শক্ত হোন। শক্ত না হলে তারা আমাদের গুরুত্ব দেবে না,” বলেন তিনি।

ইউটিউবে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে অভিযোগ তুলে সরকারদলীয় এ সংসদ সদস্য ইউটিউব বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেন।

তিনি বলেন, “ইউটিউবে দেখি খালেদা জিয়া মরে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা কালকেই ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যাচ্ছেন। আবার দেখি, সেনাপ্রধানদের টেনে নামানো হচ্ছে। এই যে প্রচার-প্রপাগান্ডা ইউটিউবে আমরা দেখি… এগুলো কোত্থেকে আসছে? এভাবে বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে। তথ্য মন্ত্রণালয় কী করেন, আমরা বুঝি না।

“কালকে সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনবেন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় নেই- এই যে কথাগুলো বলা হয়। আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। এভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়। গ্রামের মানুষগুলো এসব দেখে ভাবে, না জানি বাংলাদেশে কী হচ্ছে! তথ্য মন্ত্রণালয়কে বলবো দরকার হলে ইউটিউব বন্ধ করে দেন।”