‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ বদলে ‘বাকশাল দিবস’ পালন করবে বিএনপি

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসের’ পরিবর্তে এখন থেকে ‘বাকশাল দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “গতকাল স্থায়ী কমিটির সভায় আগামী ২৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকল মহানগর ও জেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সূবর্ণ ফসল গণতন্ত্রকে জবাই করে একদলীয় স্বৈরশাসন জারির দিনটিকে ‘বাকশাল দিবস’ হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

“মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি (বিএনপি) ওইদিন সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত দল-মত নির্বিশেষে গণতন্ত্রমনা বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।”

সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনের পর ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব দল নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন করেন।

সরকারি চাকুরে ও সেনাবাহিনীর সদস্যসহ অপরাপর সব দল ও সংগঠনকে বাকশালে যোগ দিয়ে অপশক্তির মোকাবেলা এবং দেশ পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কথা বাকশালের বিধিবিধানে বলা হয়।

তবে ওই বছরের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বাকশালের বিলোপ ঘটে।

২৫ জানুয়ারির ওই দিনটিকে এতোদিন বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছিল।

সোমবার রাতে ভার্চুয়ালি যুক্ত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।