তৈমুরকে এবার বহিষ্কার, কামালও বহিষ্কৃত

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারের শেষ দিন সংবাদ সম্মেলনে তৈমুর আলম খন্দকার। ছবিতে তার বাম পাশে এ টি এম কামাল। ছবি: মাহমুদ জামান অভি
ভোটে দাঁড়ানোর পর তৈমুর আলম খন্দকারকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল বিএনপি, হারের পর তাকে দল থেকেই বহিষ্কার করা হয়েছে। তৈমুরের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালও হয়েছেন বহিষ্কৃত।

মঙ্গলবার রাতে তৈমুর ও কামালকে বহিষ্কারাদেশের আলাদা চিঠি তাদের কাছে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে তাদের বহিষ্কারের কারণ হিসেবে ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত’ থাকার কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, “দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক আপনাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিস্কার করা হল।”

রিজভী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।”

তৈমুর রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “এখনও চিঠি পাইনি। তবে আমি যতটুকু শুনছি ঘটনা সত্য। আলহামদুলিল্লাহ।

“দলের একজন নিবেদিত কর্মী হয়ে এমন পুরস্কার পেতে হবে এটা জাতি বিবেচনা করবে। দেশের রাজনীতিতে যে মহামারী চলছে, এটাই তার নমুনা। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে শুধু হাতির (তার প্রতীক) পক্ষে সারা কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এমনটি হয়েছে তা নয়। নৌকার বিরুদ্ধে যারা কাজ করেছে শুনছি সেখানে এরকম আদেশ হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় রাজনীতিতে মহামারী চলছে।”

কামালও চিঠি এখনও পাননি জানিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। সেই আদর্শ থেকে কেউ সরাতে পারবে না। এতদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে রাজপথে ছিলাম, এখন সাধারণ সমর্থক হিসেবে থাকবে। আমৃত্যু দলের জন্য কাজ করে যাব।”

দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ৬৬ হাজার ভোটে হারেন তৈমুর।

ভোট শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, “তৈমুর আলমের খন্দকারের পদ-পদবি লাগে না। বিএনপি রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। এটা নিয়ে মরতে চাই।”

তার দুদিন পরই বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জে ভোটে দাঁড়ানো তৈমুর বিএনপি থেকে পদচ্যুত

দলীয় পদ হারিয়ে তৈমুর বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’  

তৈমুর ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদে, সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের পদে।

বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা বিএনপি দিলেও তৈমুর এবার মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি ভোটের লড়াইয়ে নামলে গত ৩ জানুয়ারি তাকে দুই পদ থেকে সরিয়ে দেয় বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ মহানগরে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় মনিরুল ইসলাম রবিকে।

এরপরও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুরের পক্ষে মাঠে নামেন। মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামালও প্রার্থী তৈমুরের প্রধান এজেন্ট হিসেবে ছিলেন ভোটের মাঠে।  তৈমুর তখন বলেছিলেন, তার সঙ্গে দলের সব নেতৃবৃন্দ রয়েছেন।

এখন দুজনই বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেন।

আইনজীবী তৈমুর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিতে যুক্ত ছিলেন। বিএনপির ক্ষমতায় থাকাকালে বিটিআরসির চেয়ারম্যানও হয়েছিলেন তিনি।

২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনের পর তৈমুরকে দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়।

২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন তৈমুর। পরে দলের নির্দেশে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।