‘লবিস্ট’ নিয়োগের তদন্তে ‘কেঁচো খুঁড়লে সাপ’ বের হবে: বিএনপি

ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগই বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে জনগণের অর্থ অপব্যয় করেছে অভিযোগ তুলে তা তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বিএনপি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগে ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সংসদে দাবি করার পর তার পাল্টায় বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “সরকারের মন্ত্রীদের দাবি তারা কোনো লবিস্ট নিয়োগ করেনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, একটা জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানকে কিছু দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তথ্য প্রমাণ বলে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।”

আওয়ামী লীগ ২০০৪ সালে ‘অ্যালক্যাডে এন্ড ফো’কে যুক্তরাষ্ট্রের লবিস্ট হিসেবে নিয়োগে দিয়ে চার বছরে সাড়ে ১২ লাখ ডলার দিয়েছিল বলে দাবি করেছে বিএনপি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৪০ হাজার ডলার ফিতে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রিডল্যান্ডার’কে লবিস্ট হিসেবে আওয়ামী লীগ নিয়োগ দেয় বলেও তাদের দাবি।

“এই ব্যাপারে কেঁচো খুড়তে গেলে আরও বড় বড় সাপ বেরিয়ে আসবে,” বলেন খন্দকার মোশাররফ।

তিনি বলেন, “দেশবাসীর দুর্ভাগ্য, তাদের উপর নির্মম অত্যাচার, গুম, খুন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে এই জুলুমবাজ অবৈধ সরকার যে অপরাধ করেছে, তা ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যে লবিস্টদের নিয়োগের জন্য সেই নিপীড়িত দেশবাসীরই ট্যাক্সের টাকা ব্যয় করছে।

“জনগণের এই অর্থ ব্যয় করে সরকার ও সরকারি দল লবিস্ট নিয়োগের নামে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে এবং তার উৎস কী? তার স্বচ্ছ তদন্ত করে তার রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।”

খন্দকার মোশাররফ বলেন, “যেখানে আমাদের বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যেকটা দেশে দূতাবাস আছে, জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধির অফিস আছে। এগুলো কীসের জন্য? সেখানে সরকার বা সরকারি দলের কেন লবিস্ট নিয়োগ করতে হবে? সেটাই প্রশ্ন।”

লবিস্টের জন্য ২ মিলিয়ন ডলার বিএনপি পেল কোথায়, তদন্ত চান শাহরিয়ার  

শাহরিয়ার আলমের অভিযোগ নাকচ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি ৮টি লবিস্ট ফার্মের সাথে চুক্তি করেছে এবং তার একটি ফার্মকেই দিয়েছে ১০ লাখ ডলার। অন্য ৭টি ফার্ম সম্পর্কে তার বক্তব্য হল- সব তথ্য আছে।

“কিন্তু কিছুই দিতে পারেননি তিনি। সত্য তো এই যে, বিএনপি কোনো লবিস্ট নিয়োগের সিদ্ধান্তই কখনও নেয়নি, লবিস্ট নিয়োগ করার প্রয়োজনও বোধ করেনি।”

তিনি বলেন, “লবিস্টগণ যেসব কথা বলবেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ তা নিজেরাই বলে থাকেন এবং তাও গোপনে না-প্রকাশ্যে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি মহাসচিবের যেসব পত্রের কপি সাংবাদিকদের মাঝে বিলি করেছেন, তাতেও কোথাও এমন কোনো বক্তব্য নেই যা তিনি এবং দলের অন্যান্য নেতৃ্বৃন্দ প্রকাশ্যে বলেননি, মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়নি কিংবা আন্তর্জাতিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি।”

লবিস্ট নিয়োগে অর্থ পাচারের যে অভিযোগ প্রতিমন্ত্রী তুলেছেন, তাও তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

“আমরা চাই যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইনকোয়ারি করুক। তাদেরটাও ইনকোয়ারি করুক। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, আমরা বাংলাদেশ থেকে লবিস্ট নিয়োগ করেনি। তার জন্য বাংলাদেশ থেকে অর্থ কোথাও যায়নি।”

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসীরা এদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের বিষয়ে সেই সব দেশে বিক্ষোভ কিংবা নিজেদের মনের কথা সেখানকার প্রতিনিধির কাছে বলতে পারেন।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।