গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ‘পাঁয়তারা’ করছে সরকার: বিএনপি

সরকার আবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ‘পাঁয়তারা’ করছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, কোনো রকমের দাম বৃদ্ধি মেনে নেওয়া হবে না।

শুক্রবার ঢাকায় এক আলোচনা সভা থেকে সরকারের উদ্দেশে তার এই হুঁশিয়ারি আসে।

মোশাররফ বলেন, “আপনারা পত্র-পত্রিকায় দেখে থাকবেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির একটা প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে যেখানে দুই চুলার গ্যাসের দাম ৯৭৫ টাকা ছিল, এখন প্রস্তাব করা হয়েছে ২১০০ টাকা; এক চুলার দাম ২০০০ টাকা করা হয়েছে। তার মানে তিনগুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বোঝেন…।

“আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা যাবে না, কোনো রকমের বৃদ্ধি মেনে নেওয়া হবে না।”

গণমাধ্যমে আসা খবর অনুযায়ী, বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্যাসের খুচরা মূল্য ১১৭ শতাংশ বা দ্বিগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে কাছে পাঠিয়েছিল। কিন্তু ওই প্রস্তাব ‘বিধি বহির্ভূত’ ছিল জানিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন- বিইআরসি।

এখন নতুন করে আবার আবেদন করতে শুরু করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো, যদিও এই মুহূর্তে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির দৃশ্যমান কোনো কারণ দেখছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “কিছুদিন আগে তারা (সরকার) জ্বালানি তেল, ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে। জনগণের পকেট থেকে টাকা নিয়ে আজকে বড় বড় প্রজেক্ট করে, বড় বড় কমিশন নিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার করছে। আর নয়।

“এই সরকার জনগণের সরকার নয়, তাদের কোনো ম্যান্ডেট নেই। আর নয়, আর এসব অনাচার-অন্যায় থেকে রক্ষা পেতে হলে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। আসুন আমরা সকলে মিলে সেই লক্ষ্যে কাজ করি।”

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলের ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ কমিটি যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভা করে।

 ‘জাতিসংঘের কাছে ১২টি এনজিওর চিঠি’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, “আওয়ামী লীগ মনে করেছিল, নিপীড়ন-নির্যাতন করে মুখ বন্ধ করে রেখে আমরা বোধহয় পার পেয়ে গেছি। পার পেয়েছে?

“আজকে সারা দুনিয়া জেনে গেছে বাংলাদেশে মানবাধিকার নেই। সেজন্য ইউএস ট্রেজারি থেকে বাংলাদেশের একটি সংস্থার ওপরে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, কতগুলো হাই-অফিসিয়ালের ওপরে নিষেধাজ্ঞা এসেছে- এটা কিন্তু গৌরবের বিষয় নয়, জাতির হিসেবে আমাদের লজ্জার বিষয়।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “আজকের পত্রিকায় দেখবেন, প্রায় ১২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা-এনজিও তারা জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে দাবি জানিয়েছে যে, জাতিসংঘের পিস মিশনে বাংলাদেশ থেকে যারা যায় সেখানে র‌্যাবের কোনো কর্মকর্তা, কোনো সদস্য যেন যেতে না পারে।

“এটা আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার নয়, এটা অবশ্যই আমাদের জন্যে লজ্জার ব্যাপার। কারা আজকে বাংলাদেশকে এভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে?... কেনো? গায়ের জন্য ক্ষমতায় থাকার জন্য।”

‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণে’ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে মোশাররফ বলেন, “কোনো স্বৈরাচার নিজের ইচ্ছায় যায় না, ধাক্কা দিতে হয়। পাকিস্তান সময়ে আমাদের এটার উদাহরণ আছে। এদেশের মানুষ পারে। আইয়ুব খানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে পেরেছে, মুক্তিযুদ্ধ করে পাকিস্তানিদের এদেশ থেকে বিদায় করতে পেরেছে।”

স্বাধীনতার পরেও যে সেই নজির আছে, সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই বাংলাদেশের মানুষ স্বৈরাচার এরশাদকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে উৎখাত করতে পেরেছে। অবশ্যই আমরা আশাবাদী এদেশের মানুষ ঠিক একইভাবে আজকের স্বৈরাচারকে উৎখাত করে, দেশের গণতন্ত্র উদ্ধার করবে।”

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আমিনুল হক ও রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা  আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন, আবদুস সালাম আজাদ, যুব দলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, ওলামা দলের শাহ নেছারুল হক,  স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ বক্তব্য দেন।