‘লবিস্ট নিয়োগে বিএনপির অর্থপাচারের’ খোঁজ নেওয়া হচ্ছে: হাছান মাহমুদ

‘নয়া পল্টনের ঠিকানা’ ব্যবহার করে বিএনপি নেতাদের বিদেশি লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে ‘চুক্তি করার’ তথ্য সরকারের কাছে আছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।  

শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের জনগণের ওপর বিএনপির কোনো আস্থা না থাকায় তারা ষড়যন্ত্রের এ পথ বেছে নিয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্র করলে তারা দেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে কি না- সে প্রশ্নও এসে দাঁড়ায়।

“বিএনপি ধারাবাহিকভাবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অবৈধ অর্থ লগ্নি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং রপ্তানি বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করেছে।”

বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সংসদে বলার পর থেকেই বিএনপি নেতাদের ‘গাত্রদাহ’ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের জন্য বিএনপি কীভাবে দেশ থেকে অর্থ পাচার করেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেগুলোর খোঁজ নিচ্ছে বলেও জানান তথ্য মন্ত্রী।

জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশন থেকে র‌্যাবকে বাদ দিতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের চিঠির বিষয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, “চিঠি প্রদানকারী সংগঠনগুলোর দুই-তিনটি ছাড়া বাকিগুলোনাম সর্বস্ব এবং সেগুলোর বিষয়ে নাম আগে শোনা যায়নি।”

গেল ৮ নভেম্বর দেওয়া ওই চিঠির খবর দুই মাস পর গণমাধ্যমে আসার পেছনেও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ আছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে খসড়া আইন জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে না-  টিআইবির এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ইস্যুতে টিআইবির বিবৃতি দেখে তিনি ‘আশ্চর্য’ হয়েছেন।

 “নির্বাচন কমিশন গঠন এবং গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির সংলাপে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল একটা আইন করার কথা বলেছেন। সে প্রেক্ষিতে সরকার একটি আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে, যেটি রাজনৈতিক বিষয়।

“টিআইবি কাজ করে দুর্নীতি নিয়ে। এটির সাথে দুর্নীতির কোনো সম্পর্ক নাই। রাজনৈতিক ইস্যুতে বিবৃতি দিয়ে টিআইবি প্রমাণ করেছে, তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করে।”  

টিআইবির বিবৃতির সঙ্গে বিএনপির বিবৃতির ‘মিল আছে’ বলেও দাবি করেন হাছান মাহমুদ।

সাংবাদিকদের সাথে এ মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মনওয়ার রিয়াদ মুন্নাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম চিশতী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী শাহও ছিলেন সেখানে।