কেউ ‘লবিস্ট’ নিয়োগ দিলে সমর্থন দেব: হারুন

যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চলমান বিতর্কের মধ্যে সংসদে লবিস্ট নিয়োগের পক্ষে কথা বললেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

হারুনুর রশীদ। ফাইল ছবি

তিনি বলেছেন, দেশে বিচার না পেয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে কেউ ধরনা দিলে তাতে সমর্থন দেবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন বিএনপির এই নেতা।

যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে বুধবার সংসদে পররাষ্ট্র্রমন্ত্রীর বিবৃতির জবাবে হারুন বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিবৃতি দিয়েছেন, তা অসম্পূর্ণ। তিনি বলেননি আওয়ামী লীগ কোন কোন সময়ে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেছেন লবিস্ট নিয়োগ করা কোনো বেআইনি কাজ নয়।

“অবশ্যই আমি মনে করি, বাংলাদেশে যারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, যারা গুমের শিকার হয়েছে, নির্বাচনের নামে উপর্যুপরি প্রহসন হচ্ছে। কিন্তু যখন দেশে বিচার পাচ্ছি না- এক্ষেত্রে আমার দায়িত্ব কর্তব্য আছে। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আমি দাবি জানাতে পারি। বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এজন্য যদি লবিস্ট নিয়োগ করে আমি তাকে সমর্থন দেব।”

লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত রোববার জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছিলেন বিএনপির হারুন এবং জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক।

এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, “বিএনপি ২০১৭ সাল পর্যন্ত চারটি এবং ২০১৯ সালে একটি ‘লবিস্ট ফার্ম’ নিয়োগ করে। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে জামায়াত-বিএনপি তিনটি ‘লবিস্ট ফার্ম’ নিয়োগ করে।”

তিনি একইসঙ্গে বলেছিলেন, “সরকার অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য জানাতে যুক্তরাষ্ট্রে পিআর প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছিল।”

এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দাবি করেন, তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি লবিস্ট ফার্মের পেছনে বিএনপি দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে।

এরপরই শুরু হয় বিতর্ক। বিএনপি নেতারা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ দিয়ে রেখেছে।

হারুন বলেন, “আন্তর্জাতিক মহল থেকে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নিষেধাজ্ঞা আসছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বিরোধীদলের লাখ লাখ নেতার বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। নিপীড়নের বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

“ক্ষমতাসীনদের জন্য আইনের প্রয়োগ একরকম। আর বিরোধী দলের জন্য ভিন্ন রকম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমাদের বিভিন্ন স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) আসছে। এটা আমাদের উদ্বিগ্ন করছে। এক্ষেত্রে যে সতর্ক বার্তা আসছে, সরকারের উচিৎ হবে এটা এড়িয়ে না গিয়ে এর থেকে পরিত্রাণের পথ বের করুন।”

সংসদে কোনো কার্যকর বিরোধীদল নেই বলেও দাবি করেন হারুন। এ সময় তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পুনরায় তুলে হারুন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে বলব আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আপনাকে আলোচনার টেবিলের দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে। আপনি আলোচনা শুরু করেন। নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে কীভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করা যায়।

“নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, এর কোন বিকল্প নেই। এটি ছাড়া কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। এ ছাড়া আমাদের জন্য একটি বিপদ আসন্ন।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য আওয়ামী লীগের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, “আজকে আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবির কেন প্রতিবাদ করছেন? কারণ একটি- যদি রাতের আঁধারে ভোট করে ক্ষমতায় থাকা যায়! যদি বিনাভোটে ক্ষমতায় থাকা যায়। জনগণের ভোটের অধিকার আজকে হারিয়ে গেছে।”

সিইসি কে এম নূরুল হুদার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সিইসি বলছেন, তিনি রাতের ভোট দেখেননি। একটি অপদার্থ ও মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন! একে নিয়ে কী বলব?

“ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের আনুগত্যশীলদের দিয়ে ইসি গঠন হয়েছে বলেই তাদের স্বার্থ পরিপন্থী কোনো কথা ইসি বলে না। ভোট হচ্ছে না। ভোট চুরি হচ্ছে তারপরও বলছে ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে।”

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই সাংসদ বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতির ডিপো। স্বাস্থ্যখাতে নিয়োগ, কেনাকাটা সব কিছুতেই দুর্নীতি ও অনিয়মের মহা উৎসবে পরিণত হয়েছে।

“করোনার সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষা বিভাগ অটোপাস আর অটো ভর্তি দিয়ে চলছে। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ করা হচ্ছে। মেধা তালিকায় থাকলেও ভিন্ন মতের কাউকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।”